কাশ্মীরে ভারতীয় সেনার ‘অত্যাচার’ নিয়ে বারে বারেই আন্তর্জাতিক মহলে মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পাকিস্তান। একই অভিযোগে এবার সরব হলেন আম পাকিস্তানিরাই। পাকিস্তানি সেনার মুখ পুড়িয়ে রবিবারই করাচি প্রেস ক্লাবের বাইরে পাক সেনা বিরোধী স্লোগান শোনা গেল।

পাকিস্তানের সমাজকর্মী জাহিদ সিন্ধী রবিবারেই নিজের টুইটার প্রোফাইলে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। যেখানে দেখা যায়, পাক-সেনা বিরোধী বিক্ষোভ। আম জনতাকে বলতে শোনা যায়, ‘‘দেশে চরমপন্থার বাড়বাড়ন্তের জন্য সেনারাই দায়ী।’’ সেই বিক্ষোভ মিছিলেই পাকিস্তান থেকে সিন্ধু প্রদেশকে স্বাধীনতা দেওয়ার দাবি ওঠে।

এর আগে পাকিস্তানে সিন্ধু প্রদেশের লোকজনের উপর অত্যাচারের প্রতিবাদে জেনেভায় মানবাধিকার কাউন্সিলের বাইরেই চরম বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন বিদেশে বসবাসকারী ‘বিশ্ব সিন্ধু কংগ্রেস’-এর সদস্যরা। ১৪ জুন সেই বিক্ষোভে হাজির ছিলেন গিলগিট-বালুচিস্তান-সিন্ধু প্রদেশের বালুচ সম্প্রদায়ের লোকজন, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দারাও। তাঁদের সমর্থন জুগিয়েছিলেন অন্যান্য দেশের মানবাধিকার কর্মীরাও।

বর্তমানে সিপিইএস(চায়না পাকিস্তান ইকনমিক করিডর) প্রোজেক্টের কাজ চলাকালীনই সিন্ধু প্রদেশের সমাজকর্মীদের উপরে অত্যাচারের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ। সেই বিক্ষোভে শুধু পাকিস্তানের সেনারাই নয়, গো ব্যাক স্লোগান উঠেছে চিনের আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধেও। ‘‘গো গো চায়না গো’’, ‘‘সিন্ধুর লোকজনদের মেরো না পাকিস্তান’’— এরকম মুহুর্মুহ স্লোগানও শোনা গিয়েছে।

ভিয়েনার প্রতিবাদে থাকা এক পাক সমাজকর্মী সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, ‘‘প্রতি মুহূর্তে সিন্ধু প্রদেশের লোকজনদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। বেশ কিছুদিন ধরেই সিন্ধু প্রদেশের সমাজকর্মীরাও রহস্যময়ভাবে নিঁখোজ হয়ে যাচ্ছেন। সমাজকর্মীদের পাশাপাশি অপহরণ করা হচ্ছে প্রতিবাদী অনেক লেখককেও। পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মীরাই এজন্য দায়ী।’’

তিনি আরও বলেন,
 ‘‘প্রত্যেক ক্ষেত্রেই রাষ্ট্র অস্বীকার করে চলেছে এই ঘটনার কথা। তবে এটা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট যে, ভয়ের রাজত্ব চালিয়ে যাওয়ার জন্য এবং প্রতিবাদের মুখ বন্ধ করে দেওয়ার জন্য প্রতি ক্ষেত্রেই রাষ্ট্র সন্ত্রাসের পন্থা অবলম্বন করে চলেছে।’’