দুর্গা পুজোর প্যান্ডেল, আর সেখান থেকে ভেসে আসা কিশোর কুমারের বাংলা বা হিন্দি গান— এমনটা না হলে তো বাঙালির সেই চারটে দিন যেন কেমন ম্যাড়ম্যাড়ে হয়ে যায়। এখনও। তাঁর মৃত্যুর প্রায় ৩১ বছর পরেও।

বাঙালির সেই প্রিয় শিল্পীকেই এবারে নিজেদের পুজোর থিম হিসেবে বেছে নিয়েছে কলকাতার এক পুজো কমিটি। মণ্ডপের ভিতর-বাইরে জুড়ে পুরোটাই থাকবেন কিশোর কুমার।

ভবানীপুর দুর্গোৎসব সমিতির এবারের থিমে কিংবদন্তি বাঙালি শিল্পী। পরিকল্পনা অনুযায়ী কিশোরের পুজোর গানের প্রচ্ছদের অনুকরণে সাজানো হবে মণ্ডপের প্রবেশদ্বার। সঙ্গে থাকবে শিল্পীর বড় মূর্তি। মণ্ডপের ভিতরেও পুরোটাই হবে কিশোরময়। একদিকে কিশোর কুমারের পারিবারিক এবং পেশাদারি জীবনের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবির সংকলন, অন্যদিকে তাঁর রেকর্ডিং, ক্যাসেট এবং তাঁর অভিনীত ও পরিচালিত ছবির পোস্টার দিয়ে সাজানো থাকবে মণ্ডপের অন্দরসজ্জা। শো-কেসে সাজানো থাকবে শিল্পীর পাওয়া বিভিন্ন পুরস্কার এবং সম্মানের প্রতিরূপ।

কিশোর কুমারের অমলিন জনপ্রিয়তা বোঝাতে ডিজে-কে দেখা যাবে তাঁরই গান বাজাতে। এবং পুজোর কয়েক দিন কিশোরের গান পরিবেশন করবেন বিভিন্ন শিল্পীরা। প্রতিমার চালচিত্র তৈরি হচ্ছে সিডি-র অনুকরণে। 

আগামীকাল, রবিবার হবে খুঁটিপুজো। নিজেদের পরিকল্পনাকে ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টার ত্রুটি রাখছেন না উদ্যোক্তারা। পুজোর উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হয়েছে গায়ক গৌতম ঘোষকে। যোগাযোগ করার চেষ্টা চলছে কিশোর কুমারের পরিবারের সঙ্গেও। পুজোর কর্মকর্তাদের দাবি, ইতিমধ্যেই গোটা দেশ থেকে কিশোর কুমারের বিভিন্ন ফ্যান ক্লাব তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুজোয় যুক্ত হতে চেয়েছে।

কিন্তু হঠাৎ কিশোর কুমারকে পুজোর থিম হিসেবে বেছে নেওয়া কেন?

পুজোর সাধারণ সম্পাদক শুভঙ্কর রায়চৌধুরীর কোথায়, "কিশোর কুমারের গান তো আজও একই রকম জনপ্রিয়। একজন মানুষ প্রথাগত কোন‌ও সংগীতশিক্ষা না নিয়েও কী ভাবে এমন কিংবদন্তি শিল্পী হয়ে উঠলেন, সেই কাহিনি নতুন প্রজন্মের জানা উচিত। সেই জন্যই এমন থিম।"

এর আগে মহানায়ক উত্তম কুমার, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে থিম করে চমকে দিয়েছিল এই পুজো কমিটি। এবার তাদের বাজি কিশোর কুমার।