দশমী পেরোতে না পেরোতেই চুক্তি পাকা।

পুজোর সময়েই শহরের বেশিরভাগ পুজো কমিটির কর্মকর্তারা মণ্ডপ ঘুরে ঘুরে ঠিক করে নিয়েছেন, আগামী বারের পুজোয় তাঁদের থিমের শিল্পী কারা হবেন। সেইমতো প্রস্তাব দিয়ে শিল্পীদের সঙ্গে চুক্তি হয়ে গিয়েছে। ‘ফোরাম অব দুর্গোৎসব’এর সম্পাদক পার্থ ঘোষ বলেন, ‘‘এই সময়ে শিল্পীদের সঙ্গে চুক্তি না করলে পরে তাঁদের পাওয়া যায় না। ভাল থিম করতে হলে শিল্পীদের সঙ্গে চুক্তি করা আগে প্রয়োজন।’’ 
শিল্পী গৌরাঙ্গ কুইল্যার কথায়, ‘‘চারটি জায়গায় আমি আগামী বছর কাজ করব। তবে কোথায়, কী কাজ করব, এখন বলা সম্ভব নয়।’’ একই কথা শিল্পী সৌমিক চক্রবর্তী এবং তাঁর স্ত্রী পিয়ালি সাধু খানের। তাঁদের বক্তব্য, ‘‘আমরা মূলত এক সঙ্গেই কাজ করি। দু’টোর বেশি কাজ করব না। আগামী বছরের জন্য ইতিমধ্যেই চুক্তিবদ্ধ। নতুন প্রস্তাব নিচ্ছি না।’’

পুজোর শিল্পী ঠিক করার পরেই ‘থিম’ বাছতে ব্যস্ত ‘বাদামতলা আষাঢ় সংঘে’র পুজো কমিটির সম্পাদক সন্দীপ চক্রবর্তী। এই বছরে তাঁদের তৈরি ‘এক টুকরো আমেরিকা’ শহরে বেশ সাড়া জাগিয়েছিল। তারপর থেকেই দর্শকের একাংশের চাহিদা, আগামী বছরও বিদেশি থিম করা। সন্দীপ জানান, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ফেসবুকে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশের বাঙালিদের কাছ থেকে থিমের অনুরোধ আসতে শুরু করেছে। ভারতের বিভিন্ন জায়গাকেও বিবেচনার মধ্যে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘কী থিম করব, তা তো বলব না। সেটাই চমক। তবে আমরাও পরবর্তী শিল্পী বাছাইয়ের পর্ব শেষ করেছি।’’ 

চক্রবেড়িয়া সর্বজনীন পুজো কমিটির অন্যতম কর্ণধার অসীম কুমার বসু বলেন, ‘‘আমাদের পুজোর শিল্পী এবং থিম— প্রাথমিকভাবে দু’টোই ঠিক হয়ে গিয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’’ 

শিল্পী সনাতন দিন্দা বলেন,‘‘আমার কাছে এই মুহূর্তে একশোরও বেশি পুজো কমিটি থেকে পুজোর কাজের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আমি পটনায় থাকায় যেতে পারছি না। ক’দিনের মধ্যে কলকাতায় গিয়েই আমার পছন্দমত পুজো কমিটির সঙ্গে চুক্তি করব।’’ 

অন্য এক শিল্পী অমর সরকার বলেন,‘‘ পরের বছরের জন্য  পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে প্রাথমিকভাবে কথাবার্তা হয়ে গিয়েছে। একবছর আগে থেকে শুরু করলে যে কোনও শিল্পীর পক্ষেই কাজের সুবিধা হয়।’’