ইতিহাস গড়তে ৭৬ মিনিট নিলেন রাফায়েল নাদাল। মন্টে কার্লোর লাল মাটিতে স্বদেশী অ্যালবার্ট রামোস-ভিনোলাসকে হারিয়ে পূর্ণ হল তাঁর ‘লা দেসিমা’। ওপেন যুগের প্রথম প্লেয়ার হিসাবে গড়লেন একই টুর্নামেন্ট দশবার জেতার অনন্য নজির!

স্প্যানিশ কিংবদন্তি ট্রফি নিতে এসে বললেন, ‘‘দশটা খেতাব জেতার অনুভূতি বোঝানোর ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না! ২০০৩’এ এখানে কোয়ালিফায়ার হিসাবে তৃতীয় রাউন্ডে পৌঁছেছিলাম। হাতে দশ বার ট্রফিটা উঠবে, কোনওদিন স্বপ্নেও ভাবিনি! জীবনে এই সুযোগটা পেয়ে আমি ধন্য।’’

লাল মাটির রাজার হাতে ট্রফি তুলে দেন মোনাকোর রাজা দ্বিতীয় অ্যালবার্ট স্বয়ং। ফাইনালে আর এক অ্যালবার্টকে ৬-১, ৬-৩ হারিয়ে ক্লে কোর্টে নিজের পঞ্চাশতম খেতাব জিতলেন নাদাল। এটাও রেকর্ড। গত বছর বার্সেলোনায় স্পর্শ করেছিলেন আর্জেন্তিনীয় গিয়ের্মো ভিলাসের ক্লে’তে সর্বোচ্চ ৮৯ খেতাব জেতার নজির। মন্টে কার্লোয় সেটা পেরিয়ে গেলেন নাদাল।

গত সাত দিনে নাদালের নির্মম সার্ভিস আর খুনে ফোরহ্যান্ড দেখে টেনিসবিশ্ব একমত, এ বার ক্লে’তে তাঁকে রোখা অসম্ভব কঠিন। মহারথী নিজে বললেন, ‘‘যত খেলছি, তত ছন্দ পাচ্ছি। সার্ভ ঠিকঠাক পড়ছে, ব্যাকহ্যান্ড খুব ভাল হচ্ছে। ফোরহ্যান্ডেও উন্নতি করেছি।’’

এই একটা খেতাবেই  তুলনা টানা শুরু হয়েছে রজার ফেডেরারের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের সঙ্গেও। নাদালের পরের স্টপ বার্সেলোনা ওপেন। সেখানেও ‘লা দেসিমা’র হাতছানি। এবং অবশ্যই ফরাসি ওপেনে। ফলে জল্পনা জমেছে ‘লা দেসিমা’র সম্ভাব্য হ্যাটট্রিক নিয়ে। নাদাল নিজে যাতে মাথা দিতে নারাজ। বলেছেন, ‘‘মরসুমের প্রথম খেতাব আজ উপভোগ করব। কাল থেকে বার্সেলোনায় মন দিতে হবে। ক্লে-কোর্ট মরসুমের শেষে ভেবে দেখব উৎসব করার কারণ আছে কী না।’’

খেতাব জেতার ঠিক পরেই অবশ্য লাল মাটি বা টেনিস, কোনওটাই মাথায় ছিল না তাঁর। ছোটেন দ্রুত নৈশভোজ সারতে। কট্টর রিয়াল মাদ্রিদ ভক্তের তখন একটাই লক্ষ্য। টেলিভিশনের সামনে বসে পড়তে হবে এল ক্লাসিকো শুরুর আগেই।