মাদ্রিদ ওপেনের আগে টেনিস বিশ্বের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে তিনি। চওড়া হাসি নিয়ে রাফায়েল নাদালও হাজির স্পেনের রাজধানীতে। মন্টো কার্লো আর বার্সেলোনার খেতাব জয়ী মাদ্রিদে ফেভারিটের তকমা নিয়ে বলেছেন, ‘‘আশা করি এখানে আপনারা রাফার সেরা সংস্করণটাই দেখবেন।’’ যার পর মুচকি হাসি’সহ সংযোজন, ‘‘অবশ্য কোন রাফা বেরিয়ে আসবে, কেউ জানে না।’’

তুরীয় মেজাজে লাল মাটির রাজা।

অথচ মাত্র এক বছর আগে এই সময়টাতেই কব্জির চোটে কাবু ছিলেন। যার জেরে নাদালের টেনিস ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন উঠে যায়। স্প্যানিশ ছেলে অবশ্য অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে চমকে দিয়েছেন বিশ্বকে। এই মরসুমে সাত টুর্নামেন্টে নেমে পাঁচটাতে ফাইনালে। ক্লে’কোর্টে ইতিহাস গড়ে জিতেছেন জোড়া খেতাব।

কোন মন্ত্রে সম্ভব হল এই পুনরুত্থান? নাদালের উত্তর, আশাবাদ। ‘‘নিজের সেরা টেনিস খেলে যেতে পারছি কারণ আমি কখনও আশা ছাড়ি না। প্রতিবার আরও উন্নতি করে কোর্টে ফেরার চেষ্টা করেছি। আরও ভাল প্লেয়ার হয়ে উঠতে হবে, এই আবেগটাই আমার শক্তি,’’ বলেছেন নাদাল।

গত দু’তিন বছর তাঁকে টানা ভুগিয়েছে চোট-আঘাত। একটা সময় হাঁটুর টেনডনাইটিসে হাঁটাচলা করা কঠিন ছিল। নাদালের কথায়, ‘‘হাঁটু মুড়তে এত কষ্ট হত যে গাড়ি চালাতে পারতাম না। হাঁটু ছড়ানো সুবিধা বলে বসতাম পিছনের সিটে।’’ তবে আরোহী হিসাবেও ইতালি আর ভারতের ট্র্যাফিক তাঁর দুঃস্বপ্ন। বলেছেন, ‘‘ভারতের ট্র্যাফিক খুব জটিল ব্যাপার। যার একমাত্র নিয়ম রাস্তায় হর্নের শাসন। কী করে যে দুর্ঘটনায় পড়িনি সেটা বিস্ময়কর!’’

প্রকৃত বিস্ময়কর অবশ্য তাঁর বর্তমান ফর্ম। যার জোরে নাদাল জীবনের নতুন লক্ষ্য স্থির করেছেন। বলেছেন, ‘‘অবসর নিয়ে ভাবছি না। আমার লক্ষ্য যতদিন পর্যন্ত সম্ভব হবে সার্কিটে খেলা চালিয়ে যাওয়া।’’

পাশাপাশি চলছে জীবনের টেনিস-উত্তর পর্বের প্রস্তুতি। নাদালের কথায়, ‘‘বাণিজ্যিক ভাবে ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছিলাম বেশ কয়েক বছর আগে।’’ সেই চিন্তার ফসল মায়োর্কার ‘রাফায়েল নাদাল টেনিস অ্যাকাডেমি’। নিজের নামে ফাউন্ডেশন গড়েছেন। বিভিন্ন দেশে দুঃস্থ শিশুদের শিক্ষা ও খেলার সুযোগ করে দিতে। ‘‘ফাউন্ডেশন আর অ্যাকাডেমি আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ,’’ বলেছেন নাদাল। যোগ করেছেন, ‘‘টেনিস কেরিয়ারের দৌলতে ভবিষ্যতে হয়তো কাজের অভাব হবে না। তবে টেনিস প্লেয়ার না হলেও অন্য কোনও ভাবে খেলার জগতের সঙ্গে যুক্ত থাকতাম। খেলার বাইরে জীবনটা ভাবতে পারি না।’’

মাদ্রিদে নামছেন পঞ্চম খেতাবের লক্ষ্যে। অবশ্য এ সবই প্রস্তুতি। স্বপ্নের ফর্মে থাকা নাদালের পাখির চোখ ফরাসি ওপেন। ২০১৪’য় যেখানে জিতেছিলেন নিজের শেষ গ্র্যান্ড স্ল্যাম। তবে রোলঁ গ্যারোজে ফেভারিট হয়েও চাপমুক্ত নন। ‘‘যারা বলে কোর্টে নেমে নার্ভাস হয় না, তারা মিথ্যে বলে,’’ সাফ কথা নাদালের। 
আবার চাপটাই তাতাচ্ছে। ‘‘চাপ না থাকলে খেলার মজাটাই তো হারিয়ে যাবে,’’ বলছেন লাল মাটির রাজা।