পুরনো ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল হয়ে গিয়েছে বেশ কয়েক মাস হল। নতুন ৫০০ ও ২০০০ টাকার নোটও চালু হয়ে গিয়েছে বেশ কিছু দিন। ২০১৬-র ৮ নভেম্বর নোটবাতিল ঘোষণার পরে নিয়ম হয়েছিল, পুরনো নোট জমা করতে হবে ব্যাঙ্কে। কিন্তু সেই সমস্ত পুরনো নোটগুলো নিয়ে কী করল দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই)। একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরবিআই ২০০ কেজি ওজনের পুরনো নোট এ বার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডিজাইনিং(এনআইডি)-র পড়ুয়াদের হাতে তুলে দিতে চলেছে।

আর‌ও পড়ুন

বাতিল নোটে কেনা হয়েছে ২৭০০ কোটি টাকার সোনা!
সাধারণের অ্যাকাউন্টে টাকা দিচ্ছে কেন্দ্র, কৃষকদের জন্য পুরনো নোটে ছাড়

২০০ কেজির বাতিল নোট অবশ্য অবিকৃত অবস্থায় শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছচ্ছে না। আসলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগৃহীত পুরনো ৫০০ ও ১০০০-এর নোটগুলো বেশ কয়েকটি ধাপ পেরিয়ে শেষমেশ আরবিআই-এর কেন্দ্রীয় দফতরে পৌঁছয়। তার পরে আরবিআই সেগুলিকে প্রথমে মেশিনের সাহায্যে ছোট ছোট টুকরোয় কেটে নেয়, এবং তার পরে সেগুলিকে মণ্ডে পরিণত করে। এ বার ২০০ কেজি নোটের মণ্ডই এনআইডি-র শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেবে আরবিআই। 

কিন্তু এনআইডি-র ছাত্রছাত্রীরা সেই নোটের মণ্ড নিয়ে কী করবেন? জানা যাচ্ছে, এনআইডি-র লক্ষ্য হল বাতিল নোটকে রিসাইকেল করে সকলের ব্যবহারের উপযোগী কোনও জিনিস তৈরি করা। এর জন্য মে মাসের শেষ দিকে একটি সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হবে বলে জানান এনআইডি-র ফার্নিচার এবং ইন্টেরিয়ার ডিজাইনিং বিভাগের কোঅর্ডিনেটর প্রবীণসিংহ সোলাঙ্কি। তিনি বলেন, ‘কোনও রকমের রিসোর্সই যে নষ্ট করা উচিত নয়, সে ব্যাপারে সরকার সচেতন। এই নোটগুলো ডিজাইন করা এবং ছাপার জন্য অনেকটা সময় ব্যয় হয়েছিল।’

যে প্রতিযোগিতাটির আয়োজন করা হয়েছে তাতে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে পুরনো নোট পুনর্ব্যবহারের জন্য পরিকল্পনা চাওয়া হবে। বিজয়ীদের জন্য থাকবে পুরস্কারের বন্দোবস্তও। প্রথম পুরস্কার বিজেতা পাবেন ১ লক্ষ টাকা। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারী পাবেন যথাক্রমে ৭৫ হাজার টাকা এবং ৫০ হাজার টাকা। 

সোলাঙ্কি বলছেন, পুরনো জিনিস মানেই যে বাতিলযোগ্য নয়, তা বোঝাবে এই প্রতিযোগিতা। পুরনো নোট ব্যবহার করে নতুন ব্যবহারযোগ্য বস্তুতে রূপান্তরিত করা হবে।