• আপনি তো শিলংয়ের বাঙালি...।
হ্যাঁ।

• এই ওয়েব সিরিজে আপনার চরিত্রটাও বাঙালি। বাঙালি হওয়ায় বিশেষ কোনও লাভ হল কি?
আমার চরিত্রটা ফিকশনাল। ওয়েব সিরিজটাও হিন্দিতে করা হচ্ছে। চরিত্রগুলো বাঙালি হলেও কথা বলা হিন্দিতেই। যাতে গোটা দেশজুড়ে প্রেজেন্ট করা যায়। 

• বাঙালি হিসেবে সুভাষচন্দ্র বসুকে কীভাবে দেখেন?
আমাদের বেড়ে ওঠা, আমাদের সংস্কৃতির একটা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সুভাষচন্দ্র বসু। আপনিও বাঙালি। নিশ্চয়ই সেটা অনুভব করেন কোথাও না কোথাও। কিন্তু কোনও এক অজানা কারণে, ওঁর সম্পর্কে ইতিহাস বইয়ের পাতায় খুব একটা আমরা পড়ি না। এক-আধটা চ্যাপ্টার, ব্যস! কাজেই এই চরিত্রটা করার সুযোগ যখন এল, রীতিমতো এক্সাইটেড হয়ে পড়েছিলাম। 

• হনসল মেটার সঙ্গে আবার কাজ করার সুযোগও তো হল?
হনসল স্যার এই ছবির ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর। কাজেই উনি যখন প্রস্তাবটা দিলেন, আই ওয়াজ মোর দ্যান এক্সাইটেড! 

• কোথায় কোথায় শ্যুটিং করলেন?
গোটা শহর জুড়েই শ্যুটিং করছি। যে দৃশ্যের জন্য যে রকম লোকেশন প্রয়োজন, সেরকম জায়গাতেই হচ্ছে। আসলে এটা নেতাজির জার্নি। 

• সেটা তো একটা বড় রহস্য?
হ্যাঁ! ওঁর অন্তর্ধানের ব্যাপারে আমরা খুব কমই জানি। উনি সত্যিই বিমান দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন কি? অনেকেই বলেন, উনি নাকি কোনও এক ধর্মগুরু হয়ে গিয়েছিলেন। কাজেই ওঁকে নিয়ে প্রচুর বিতর্ক রয়েছে। তবে যতই বিতর্ক থাক, যতই ওঁকে নিয়ে কম তথ্য মজুত থাকুক, ওই একটা মানুষকে আমরা সকলেই স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসেবে মনে রেখেছি। আমরা, ভারতীয়রা জানি নেতাজি কে।

• এলগিন রোডে সুভাষচন্দ্রের বাসভবনে গিয়েছিলেন?
গিয়েছিলাম। 

• সুভাষচন্দ্র ছাড়া আপনার কলকাতা-কানেকশন কতটা?
আরে, আমি সবার আগে বাঙালি। আমার বাবা-মা শিলংয়ে থাকেন। ওখানেই জন্মেছি, বড় হয়েছি। তারপর সেখান থেকে বোর্ডিং স্কুল এবং মুম্বই। আমার দাদু-ঠাকুমা কলকাতাতেই থাকতেন। গল্ফগ্রিনে। যদিও ওঁরা কেউই এখন বেঁচে নেই। আর কলকাতা আমার উইন্টার ভেকেশন কাটানোর জায়গা ছিল ছোটবেলায়। তিন-তিনটে মাস এসে থাকতাম। 

• বন্ধুরা রয়েছে এখানে?
আরিব্বাবা! ওই ছুটির তিন মাস তো ওদের সঙ্গেই কাটিয়েছি। থাকবে না! কলকাতা আমার ছোট থেকেই খুব ভাল লাগে। আই লাভ দ্য ফুড হিয়ার। সেদিক থেকে দেখলে আমি আবার খাঁটি বাঙালি। আই লাভ মাই মাছ! আই লাভ মাই ভাত! আই লাভ দ্য মিষ্টি! 

• বাংলায় কাজ করার ইচ্ছে আছে?
ভাল অফার পেলে কেন নয়!

• আপনি কি বাংলা বেশ গড়গড় করে বলতে পারেন?
মা-বাবার সঙ্গে বলি বাংলায় কথা। শুধু বাংলায় (হাসি)। আমার বাংলা অতটাও খারাপ নয়। 

• ‘সিটিলাইট্স’এর তিন বছর পূর্ণ হয়ে গেল। অথচ রীতিমতো প্রশংসিত হয়েও কেন আপনাকে মহেশ ভট্টের কাছে কাজ চাইতে যেতে হয়েছিল?
উনি ছবিটা প্রোডিউস করেছিলেন। আর এতটা প্রশংসা পাওয়ার পরেও কেন কাজ পাইনি, সেটা আপনি ইন্ডাস্ট্রির লোকজনকে জিগ্যেস করুন। 

• কোনও বিশেষ কারণে গিয়েছিলেন ওঁর কাছে?
ভট্টসাহেবের সঙ্গে তিনটে ছবির কনট্র্যাক্ট ছিল। প্রথম ছবির জন্য প্রচুর প্রশংসা আর ভালবাসা পেয়েছিলাম। দ্বিতীয়টার (লাভ গেম্‌স) জন্য আবার কঠোরভাবে সমালোচিত হয়েছিলাম। অ্যাজ অফ নাউ মাই স্লেট ইজ এম্পটি। এখান থেকে দেখা যাক কোনদিকে যাই। এখানে বলে রাখি, জুলাই থেকেই পরের ছবির কাজ শুরু করছি। সেটা উত্তরপ্রদেশের একটা গল্প। ছবিটার ঘোষণা এখনও হয়নি। তবে আমি এখনই এক্সাইটেড!

• বলিউডে কিছু অভিনেতা-অভিনেত্রী কাজের পর কাজ পাচ্ছেন। আর কাউকে একটার পর আরেকটা কাজ পেতে অপেক্ষাই করে যেতে হচ্ছে। সবকিছু কি ঠিকঠাক হয় বলিউডে?
নো, আই ডোন্ট ফাইন্ড এনিথিং রং। আমার কাছে ভাল স্ক্রিপ্ট আসছিল না। একবার অভিনেত্রী হয়ে গেলে স্ক্রিপ্ট আসতেই থাকে। কিন্তু স্ক্রিপ্ট বাছার উপর অনেক কিছু নির্ভর করে। হ্যাঁ, ঠিকই ‘সিটিলাইট্‌স’এর পর আমি কাজ পাইনি। এমন কোনও কিছু পাইনি তখন, যেটা আমার কাজ করার পক্ষে যথেষ্ট ছিল। 

• ‘বোস’এ আপনার, রাজকুমার রাও এবং হনসল মেটার পুরনো জুটি...।
(থামিয়ে দিয়ে) ইট ইজ বিয়ন্ড ফিল্মস! আমরা পরিবারের মতো। খুব সহজে কাজটা করে ফেলা যায়। আসলে মনেই হয় না, যে কাজ করছি! এটাও কাজই। কিন্তু ওই ক্ষণে ক্ষণে, ‘হা ঈশ্বর আমাকে পারফর্ম করতে হবে’ ব্যাপারটা থাকে না। কোনও রকমের অ্যাংজাইটি কাজ করে না। এটাই হওয়া উচিত। আমরা তিনজনেই খুব প্যাশনেটলি কাজটা করি বলেই এটা হয়। 

• আর আলাদা করে রাজকুমার রাওয়ের সঙ্গে কাজ করে কেমন লাগে?
(চোখ পাকিয়ে) এটা প্রশ্ন?

• হ্যাঁ!
আচ্ছা! (দীর্ঘশ্বাস) একটু ভয়েরই! কারণ ও খুব শক্তিশালী অভিনেতা। ওর পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করাটা একটু চাপেরই। তবে এতদিন ধরে চিনি তো, ওকে ব্যক্তিগতভাবে। তাই ব্যাপারটা মসৃণভাবে হয়ে যায় আর কী!

• আপনাদের সম্পর্কের ব্যাপারে কখনও শোনা যায় ব্রেকআপ, কখনও প্যাচআপ। কখনও আপনি কোনও সাক্ষাৎকারে বলেন। কখনও রাজকুমার বলেন...। 
(সামান্য বিরক্ত) একটু খোলসা করে বলবেন!

• এই যে বলিউডে একদল লোক সম্পর্ক ভাঙল কি না আর একদল জুড়ল কি না নিয়ে আলোচনা করে। ব্যাপারটা বিরক্ত করে না আপনাদের দু’জনের সম্পর্ককে?
আই ডোন্ট কেয়ার! আমরা একটা সম্পর্কে আছি, এটাই তো যথেষ্ট। তার বাইরে আর কোনও বিষয়ে কথা বলে লাভ কী! আমি তো একটা মানুষ নাকি। ইয়েস, আই অ্যাম ডেটিং হিম। ইট’স নট আ বিগ ডিল! 

• আর যদি কেউ সিঙ্গলও থেকে থাকেন, তা নিয়েও তো কথা হয় যে তিনি সিঙ্গল কেন?
আরে বাবা, তোমার রিলেশনশিপ থাকতেও পারে। না-ও পারে। এ নিয়ে এত কথার কী আছে! প্রথম যেদিন মিডিয়ার সঙ্গে ইন্টার‌্যাকশন করেছিলাম, সেদিন থেকেই লোকজনকে বলে দিয়েছি যে ডেট করাটা কোনও বড় কথা নয়। 

• টুইটার হ্যান্ডলে আপনি ২৯ এপ্রিল সনিকা চৌহানের ঘটনাটার ব্যাপারে দুঃখপ্রকাশ করে টুইট করেছিলেন। চিনতেন সনিকাকে?
(দীর্ঘশ্বাস) চিনতাম। খুব খারাপ লেগেছিল সেদিন। খুবই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। শি ওয়াজ ফুল অফ লাইফ। প্রমিসিং কেরিয়ারও ছিল। বেশ কয়েকবার ওর সঙ্গে দেখা হয়েছে। কথাও হয়েছে। 

• কীভাবে আলাপ হয়েছিল সনিকার সঙ্গে?
সাহেবের (ভট্টাচার্য) মাধ্যমে ওর সঙ্গে আলাপ। শি ওয়াজ সো ইয়ং! টুইটারে ঘটনাটার কথা জেনে সত্যিই বিশ্বাস করতে পারিনি।

• বিক্রম চট্টোপাধ্যায়ের শাস্তির দাবিতে কলকাতায় প্রতিবাদ হচ্ছে, খবর রাখেন?
রাখি। থাক না এসব কথা! যে ক্ষতিটা সনিকার বাবা-মায়ের হয়েছে, সেটা তো আর কেউ পূরণ করতে পারবে না।