অবশেষে রাজ্যসভায় পাশ হল রিয়েল এস্টেট বিল। বৃহস্পতিবার সংসদের উচ্চকক্ষে এই বিল পাশ হওয়ায় ফ্ল্যাট কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষের হয়রানি অনেকটাই কমবে বলে আশা করা যায়।

একনজরে দেখে নিন, নতুন এই আইন কার্যকর হলে ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে আপনি ঠিক কি কি সুবিধা পাবেন।

প্রথমত এই আইন প্রণয়ন হওয়ার একবছরের মধ্যে প্রতিটি রাজ্যে একটি করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা চালু করতে হবে। সংশ্লিষ্ট রাজ্যে সমস্ত রিয়্যাল এস্টেট ডেভেলপারদের ওই নিয়ন্ত্রক সংস্থায় নাম নথিভুক্ত করতে হবে। রাজ্যে যে আবাসন প্রকল্পগুলি চলবে, সেখানে কী কী সুযোগ-সুবিধের পাওয়া যাবে, তার বিস্তারিত বিবরণ সংশ্লিষ্ট রাজ্যের নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওয়েবসাইটে দিতে হবে। যদি প্রমাণিত হয় যে, ডেভেলপার কোনও মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন বা দাবি করছেন, তা হলে ক্রেতার থেকে নেওয়া অর্থ সুদ-সহ ফেরত দিতে হবে।

কতদিনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে, তার নির্দিষ্ট দিনক্ষণও আগে থেকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওয়েবসাইটে দিয়ে দিতে হবে। যদি কোনও ক্রেতা মনে করেন যে, বিজ্ঞাপনের জন্য বিভ্রান্ত হয়ে তিনি ফ্ল্যাট কেনার জন্য অর্থ দিয়েছেন এবং দেরিতে প্রকল্পের কাজ শেষ হচ্ছে বলে তিনি অগ্রিম টাকা ফেরত চান, তা হলে সুদ সমেত সেই টাকা ফেরত দিতে বাধ্য থাকবেন ডেভেলপার।

অনেক সময়েই অভিযোগ ওঠে, যে একটি প্রকল্পের জন্য ক্রেতাদের থেকে টাকা তুলে ডেভেলপার অন্য প্রকল্পে সেই টাকা বিনিয়োগ করেন। কোনওভাবে ডেভেলপারের টাকা তোলার উৎস বন্ধ হয়ে গেলে প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হয়। নতুন এই আইন অনুযায়ী, যে প্রকল্পের জন্য ক্রেতাদের থেকে টাকা নিচ্ছেন ডেভেলপার সেই প্রকল্পেই ক্রেতাদের থেকে নেওয়া টাকার ৭০ শতাংশ বিনিয়োগ করতেই হবে। এর ফলে, ক্রেতা যে ফ্ল্যাটটি কেনার জন্য টাকা অগ্রিম দিচ্ছেন, সেটির কাজ সময়ে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

নতুন এই আইনে অগ্রিম বাবদ ফ্ল্যাটের দামের ১০ শাতংশের বেশি টাকা নিলেই লিখিত চুক্তি করতে হবে। ফলে, লিখিত চুক্তি না করলে কোনও ডেভেলপারের পক্ষেই ক্রেতাদের থেকে অগ্রিম বাবদ ১০ শতাংশের বেশি টাকা নেওয়া সম্ভব হবে না।