যেমন নাম, তেমন অফার। বিনামূ্ল্যে পরিষেবার হিড়িক দেখে গ্রাহকরা স্বতস্ফূর্তভাবেই বলতেন ‘জিও’! ফ্রি অফার শেষ হওয়ার পরে সেই প্রবণতা হয়তো কিছুটা কমেছে। কিন্তু রিল্যায়েন্স জিও নিয়ে গত কয়েক মাসে চর্চার মধ্যে কখনও ভেবে দেখেছেন, এত নাম থাকতে হঠাৎ মোবাইল সংস্থার নাম ‘জিও’ রাখতে গেলেন কেন মুকেশ অম্বানী? এ নিয়ে রিল্যায়েন্সের পক্ষ থেকে এখনও কোনও সরকারি ব্যাখ্যা বা বিবৃতি পাওয়া যায়নি। কিন্তু ইন্টারনেটে মতামত বিনিময়ের একটি ফোরামে জিও-র নামকরণ নিয়ে দু’টি যুক্তিগ্রাহ্য ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

প্রথম ব্যাখ্যাটি পুরোপুরি রিল্যায়েন্সের তেল ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্কিত। এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ইংরেজিতে ‘jio’ কথাটির মিরর ইমেজ ‘oil’ শব্দটির একদম কাছাকাছি যায়। যেহেতু রিল্যায়েন্স মূলত তেল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, তাই ‘oil’ শব্দটি থেকেই লোগো ডিজাইনাররা ‘jio’ নামকরণ করেছেন। 

‘jio’ উল্টে দিলেই ‘oil’, কিন্তু একটি ছোট পার্থক্য চোখে পড়ছে কি? গ্রাফিক্স- বিশ্বজিৎ দাস

দ্বিতীয় ব্যাখ্যাটির সঙ্গে অবশ্য রিল্যায়েন্স জিও-র কর্ণধার মুকেশ অম্বানীর প্রয়াত বাবা ধীরুভাই অম্বানীর যোগ রয়েছে। এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ধীরুভাই অম্বানীকে কেউ প্রণাম করলে বা আশীর্বাদ চাইলেই তিনি অভ্যাসবশত ‘জিও’ বলতেন। প্রয়াত বাবার স্মৃতিকেই ‘জিও’ ব্র্যান্ডের মধ্যে দিয়ে গোটা দেশে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন ছেলে মুকেশ। এক্ষেত্রে সব ভারতীয়কেই সস্তায় ইন্টারনেট পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার মধ্যেই বাবার আশীর্বাদকেই হয়তো দেখেছেন মুকেশ অম্বানি।

আরও পড়ুন 

কেন ফের ধাক্কা খেল জিও, খোলাখুলি জানিয়ে দিল ট্রাই

কোন ব্যাখ্যাটি সত্যি, বা আদৌ তা সত্যি কি না এবং কতটা যুক্তিগ্রাহ্য, তা নিয়ে চর্চা চলতেই পারে। কিন্তু গত কয়েকমাসে রিল্যায়েন্স জিও-র সৌজন্যে বিনামূল্যে যে পরিমাণ ডেটা আপলোড, ডাউনলোড বা ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলেছে ভারতীয়রা, তাতে সাদা বাংলায় বলতেই হচ্ছে ‘জিও কাকা’!