তারাপীঠে কৌশিকী অমাবস্যায় সারা রাত মদের দোকান খুলে রেখে রেকর্ড আয় রাজ্যের। দু’দিনে মদ বিক্রি হয়েছে প্রায় আড়াই কোটি টাকার। এমন বিক্রিতে রাজ্যের কোষাগারে বিপুল অর্থাগম হলেও রেকর্ড ভাঙা গেল না।

দু’বছর আগের রেকর্ড ভাঙতে পারল না আবগারি দফতর। আর তাতেই আড়াই কোটির মদ বেচেও হাসি নেই ব্যবসায়ীদের মুখে। তাঁদের দাবি, কৌশিকী অমাবস্যা জমলেও মদ বিক্রি তেমন হয়নি। বিক্রি কমে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে পারেননি জেলা আবগারি দফতর। তাহলে কি অবৈধ মদ বিক্রেতাদের দৈরাত্ম্য ঠেকাতে ব্যর্থ প্রশাসন? এনিয়েই উঠছে প্রশ্ন।

৯ সেপ্টেম্বর তারাপীঠে ছিল কৌশিকী অমাবস্যা। তবে যেহেতু গভীর রাতে অমাবস্যা লাগে, তাই ৮ সেপ্টেম্বর থেকেই মানুষের ঢল নামতে শুরু করে তারাপীঠে। গত বছরের থেকে এবার মানুষের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। এবার পাঁচ লক্ষ মানুষের সমাগম হয়েছিল বলে প্রশাসনের দাবি। গত বছর বিভিন্ন এলাকায় বন্যার কারণে কম সংখ্যক মানুষ এসেছিলেন। কিন্তু এবার শুধু মাত্র রেল পথেই সারে তিন লক্ষ মানুষ এসেছিলেন বলে দাবি রামপুরহাট জিআরপি ইনচার্জ গৌতম মুখোপাধ্যায়ের। তবে ১০ সেপ্টেম্বর বাম ও কংগ্রেসের ভারত বন‌্ধ থাকায় কিছু সরকারি কর্মচারী আসতে পারেননি বলে মনে করছেন অনেকে। 

হোটেল ব্যবসায়ীদের মতে, ১০ সেপ্টেম্বর ছিল সাধারণ ধর্মঘট। মুখ্যমন্ত্রী সমস্ত কর্মচারীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন ধর্মঘটের দিন এবং তার আগের দিন অফিসে হাজিরা দিতে হবে। কোনও রকম ছুটি দেওয়া হবে না। এই কারণেই একটা বড় অংশের মানুষ এবার তারাপীঠ মুখো হননি। এই দাবি মেনে নিয়েছেন তারাপীঠ মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “প্রথমত একদিনের বেতন কেটে নেওয়ার হুমকিতে সরকারি কর্মচারীরা এবার তারাপীঠে আসেননি। তাছাড়া ধর্মঘটের দিন ফিরে যাওয়ার সমস্যার কারণে একটি অংশের মানুষ আসেনি।’’ 
তারাময় মুখোপাধ্যায় বলেন, “মদ বিক্রি বাড়ার কথা। কিন্তু এবার কেন কমল তা তদন্ত করে দেখা দরকার।’’ 

সরকারি হিসাবে দেখা যাচ্ছে ২০১৬ সালে জেলা আবগারি দফতরের হিসাবে ৩ কোটি ২৫ লক্ষ টাকার মদ বিক্রি হয়েছিল। ওই বছর ৪টি দোকান থেকে দেশি মদ বিক্রি হয়েছিল ৭১ হাজার ১৯ বোতল। যার মূল্য ৩৯ লক্ষ টাকার কিছু বেশি। ৮টি দোকান থেকে বিদেশি মদ বিক্রি হয়েছিল ২ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকার। আর বিয়ার বিক্রি হয়েছিল ২৩ লক্ষ ৬৬ হাজার টাকার। 

গতবছর রাজ্যের বিভিন্ন অংশে বন্যার কারণে ভক্ত সমাগাম অর্ধেক হয়েছিল। আবগারি দফতরের হিসাবে গত বছর তারাপীঠে মদ বিক্রি হয়েছিল দেড় কোটি টাকার। বছর দুয়েকের তুলনায় এবার মদের দোকান বেড়েছে দিগুন। এবার ১৬টি দোকান থেকে বিদেশি মদ বিক্রি হয়েছে ২৫,২৬৭ লিটার। বিয়ার বিক্রি হয়েছে ৯,৯০৬ লিটার। দেশি মদ বিক্রি হয়েছে ৩,৪১৬ লিটার। গড়ে ৬৫০ টাকা লিটার হিসেব বিদেশি মদ বিক্রির মূল্য ১,৬৪,২৩,৫৫০ টাকা। ১৩০ টাকা লিটার ধরে বিয়ারের বিক্রি মূল্য ধরা হয়েছে ১২,৮৭,৬৫০ টাকা। অন্য দিকে, দেশি মদের বিক্রি মূল্য ধরা হয়েছে ১০,৬৭,৪০০ টাকা। সব মিলিয়ে এবার আবগারি দফতরের হিসাবে মদ বিক্রি হয়েছে এক কোটি ৮৮ লক্ষ টাকা।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

বছর দুয়েকের ব্যবধানে মদের দাম বেড়েছে। দোকানের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে। বেড়েছে মদের দাম। কিন্তু বিক্রির সংখ্যা কম কেন? তার উত্তর দিতে পারেননি জেলা আবগারি আধিকারিক বাসুদেব সরকার। তিনি বলেন, “আমরা নজরদারি চালিয়ে অবৈধ মদ বিক্রি বন্ধ করেছি। তবে বছর দুয়েক আগে আমি দায়িত্বে ছিলাম না। কী হয়েছে বলতে পারব না।’’