জন্মের তিন বছর পরে প্রথম ধরা পরে সমস্যা। চলা ফেরা তো দূরের কথা, সোজা হয়ে দাঁড়াতে পর্যন্ত পারত না ছোট্ট রিমো। হাসপাতালের  চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারবে না রিমো সাহা। জন্মানোর পর থেকেই পোলিও রোগে আক্রান্ত সে।

প্রথমে লোহার জুতো ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে সাইক্লিং ও সাঁতার শেখার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। ১৯৯৩ সাল থেকে শুরু হয় রিমোর লড়াই। অন্য এক লড়াই শুরু হয় রিমোর পরিবারের। ছেলেকে সুস্থ করে তোলাই মোক্ষ ছিল পরিবারের। সালকিয়া সুইমিং অ্যাসোসিয়েশন থেকে শুরু হয় রিমোর যাত্রা। সুস্থ হওয়ার লক্ষ্যেই জলে নামে রিমো। সেই লড়াই আজ হয়ে উঠেছে এক দৃষ্টান্ত। 

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

২০০৪ সালে রাজ্যস্তরের প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ সাঁতার প্রতিযোগিতায় সাব জুনিয়র বিভাগে দুটি ইভেন্টে সোনা জিতে শুরু হয় রিমোর অভিযান। এর পরে আর পিছনে ঘুরে তাকাতে হয়নি সালকিয়া নন্দী বাগানের একরত্তি এই ছেলেটিকে। এর পরে রাজ্য ও জাতীয় স্তরের সাঁতার প্রতিযোগিতায় সাফল্য পায় রিমো। দেশের হয়ে জার্মানি ও চিনে সাফল্য রিমোকে আরও জেদি করে তোলে। প্রতিবন্ধী ছেলেকে সমাজের কাছে তুলে ধরতে খামতি করেননি মা-বাবা।

ইংলিশ চ্যানেল পার হওয়ার লক্ষ্যে কঠোর পরিশ্রম শুরু করে দেয় রিমো। একা রিমো নয়, প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই করা আরও তিন জনকে সঙ্গে করে ২০১৮ সালে রিলে সিস্টেমে ইংলিশ চ্যানেল জয়ের উদেশে রওনা দিচ্ছে তারা। এই চার যুবকই পোলিও রোগে আক্রান্ত। মাসুদুর রহমানের পর বাংলা থেকে দ্বিতীয় প্রতিবন্ধী সাঁতারু হিসেবে এই খ্যাতি অর্জনে উদ্যোগী রিমো। 

বাধা এখন অর্থ। জলে নামলে রিমোর ডান পা কাজ করে না। এক পায়ের ভরসায় জলের সঙ্গে লড়াই করতে হয় তাকে। আক্ষেপ একটাই, এই সময়ে যদি মাসুদুর বেঁচে থাকতেন, তাহলে তাঁর পরামর্শ পেত রিমো। ১২ লাখ টাকা জোগাড় করতে হার মেনেছে বেসরকারি সংস্থায় কাজ করা বাবা। তাই তো সবার কাছে একটাই আবেদন, রাজ্য সরকার বা কোনও ব্যক্তি যদি সাহায্যের হাত বাড়ান, তাহলে লড়াইয়ের পথ কিছুটা মসৃণ হয়।

চড়া সুদে লোন নিয়ে শুরু হয়েছে যুদ্ধের প্রস্তুতি। তবে কীভাবে শোধ হবে ধারের বোঝা, তা জানা নেই সাহা পরিবারের। সালকিয়ার ভাঙাচোরা একচিলতে ঘরে ইংলিশ চ্যানেল জয়ের স্বপ্ন দেখা যে কঠিন, তা বুঝতে পেরেছে রিমোও। তবে হার মানতে নারাজ সে। এগিয়ে চলার নামই যে জীবন। এটা বেশ বুঝতে পেরে গিয়েছে রিমো।