রমজানের সময় ডায়াবেটিসের বিপদ এড়াতে উপবাস নিয়ে সতর্কতার প্রচার শুরু করল একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন ইমামরাও।

রমজান মাসে উপবাসের সময় কী কী সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত, খাদ্যতালিকায় কোন ধরনের খাবারকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত— এসব নিয়েই শুক্রবার রাজপুরের দক্ষিণ জগদ্দলে প্রচার শুরু করল একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। তাদের বক্তব্য, বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীরা যদি উপবাসের সময় সতর্কতা অবলম্বন না করেন তাহলে বিপদ হতে পারে। ওই সংস্থার পাশে দাঁড়িয়েছেন খোসহালপুর জামে মসজিদের ইমাম মহম্মদ সিরাজউদ্দিন (ফারুক)। তাঁর কথায়, ‘‘ধর্মে বলা হয়েছে, শরীরের ক্ষতি হয় এমন কিছু করার দরকার নেই। ডায়াবেটিস রোগীদের আমরা বোঝাব, উপবাসের সময় কীভাবে চলতে হবে।’’

সংশ্লিষ্ট স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার তরফে ইন্দ্রজিৎ মজুমদারের কথায়, ‘‘ধর্ম পালনও করতে হবে। ডায়াবেটিস রোগ সম্পর্কে সচেতনও থাকতে হবে। কারণ, ডায়াবেটিসের ধর্ম পালন না করলে মৃত্যু অবধারিত।’’ যাঁরা রোজা রাখেন, তাঁদের সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত উপবাস করতে হয়। এদিন প্রচারে উপস্থিত চিকিৎসক দেবাশিস বসু বলেন, ‘‘রক্তে শর্করা পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। তাই এমনভাবে খাদ্য তালিকা নির্বাচন করতে হবে যাতে উপবাসের সময়ে শর্করার পরিমাণে ভারসাম্য থাকে।’’

এদিন দক্ষিণ জগদ্দলে বিলি করা হয় লিফলেট। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ডায়েটেশিয়ান অর্ণব সরখেল বলেন, ‘‘সূর্যাস্তের পর খাবারের তালিকায় থাকা উচিত, শুকনো ফল, খেজুর, মিষ্টি এবং নুন ছাড়া দইয়ের ঘোল। রাতে ভাত, রুটি, ডাল খাওয়া যেতে পারে। সূর্যোদয়ের আগে ওটস, ডালিয়া, দুধ খেলে ভাল।’’

এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাঘবপুর জামে মসজিদের ইমাম আনোয়ার হোসেন মণ্ডল বলেন, ‘‘আমার এলাকাতেও এই প্রচার অভিযান চালাব। কী ধরনের খাবার খাওয়া উচিত, কী কী সতর্কতা নেওয়া উচিত সে সম্পর্কে আমি অন্যদের বোঝাব।’’ দক্ষিণ জগদ্দলের বাসিন্দা আশু সর্দারের বক্তব্য, ‘‘ডায়াবেটিসের খুঁটিনাটি জানা ছিল না। সতর্কতা মেনে চলার চেষ্টা করব।’’