পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মহিষাদলে মীরপুর গ্রামের পর্তুগিজ পাড়া মেতে উঠল বড়দিনের উৎসবে। নামেই পর্তুগিজ এখানকার বাসিন্দারা, আদব কায়দায় পুরোস্তুর বাঙালি। তাঁদের পোশাক-পরিচ্ছদও বাঙালিদের মতোই। বহু বছর একসঙ্গে থাকার পরে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষকে বিয়েও করেছেন এঁরা। গৃহবধূরা কপালে সিঁদুর, পরনে শাঁখা-শাড়ি পরে চার্চে গিয়ে প্রার্থনা করেন। বড়দিন উপলক্ষ্যে ছোট-বড় কেকের দোকানে ছেয়ে গিয়েছে গোটা এলাকা। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন চার্চ রঙিন আলোয় সেজে উঠেছে। 

জানা গিয়েছে, ১৭৪২ সালে মহিষাদলের রাজা আনন্দলাল উপাধ্যায় বর্গি হানা ও জলদস্যুদের হাত থেকে রাজত্ব বাঁচানোর জন্য গোয়া থেকে ১২ জন পর্তুগিজ সৈন্যকে মহিষাদল আনেন। মহিষাদলের গেঁওখালিতে রূপনারায়ণ নদীর পারে মীরপুরে বসবাস শুরু করেন ওই সৈন্যরা। সেই পর্তুগিজদের কলেবরে বৃদ্ধি পেয়ে মীরপুরে কার্যত পর্তুগিজ কলোনি তৈরি হয়। এই কলোনির দু’টি চার্চ প্রতি বছর বড়দিনে বাহারি আলোয় সেজে ওঠে। যিশু খ্রিষ্টের জন্মদিন উপলক্ষে বড় মেলাও বসে। আলোকোজ্জল পরিবেশে হাজারো মানুষের উপস্থিতি, সঙ্গে সান্তাক্লজের বেশে বহুরুপী— সবমিলিয়ে উৎসবের অনন্য আবহে পরিপূর্ণ মীরপুর। উল্লেখ্য, শুধু মীরপুরই নয়, হলদিয়া, তমলুক, কাঁথি-সহ জেলার বিভিন্ন ছোট গির্জা গুলিকেও সাজিয়ে তোলা হয়েছে।

দেখুন ভিডিও—