সিঙ্গুলার, নাকি প্লুরাল?
ক্যাপ্টেন আমেরিকাকে বলা হয় ‘দ্য ফার্স্ট অ্যাভেঞ্জার’। সেই নামে ক্যাপ্টেন আমেরিকা ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রথম ছবিও। ফ্র্যাঞ্চাইজির তৃতীয় ছবি ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা: সিভিল ওয়ার’। যদিও সেখানে অ্যাভেঞ্জারদের একাধিক সদস্য উপস্থিত। আয়রন ম্যান তো আছেই। ব্ল্যাক উইডো, ফ্যালকন, হকআই, স্কারলেট উইচ, ভিশন, অ্যান্ট ম্যানরাও বর্তমান! বাদ পড়েনি স্পাইডার ম্যানও। সুতরাং আদপে এটা সিঙ্গল ফ্র্যাঞ্চাইজির ছবি নয়। প্রশ্ন হল, শুধু ক্যাপ্টেন আমেরিকাকে আনলে কি বাজার-বাণিজ্য মন্দ হতো? বোধহয় না। কারণ আগের দু’টো ছবি জবরদস্ত চলেছে। ‘মার্ভেল’ ভক্তেরা বসে থাকেন নতুন নতুন সিরিজের জন্য। ছবির পরিচালক অ্যান্টনি রুসো আর জো রুসো অবশ্য বলছেন, ‘‘আমরা আগের ছবির চেয়ে স্কেলটা আরও বাড়াতে চেয়েছিলাম। পরের ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’ যেমন এই ছবিটার চেয়ে আরও বড় হবে!’’ সেটা বোঝাই যাচ্ছে। ছবির শেষে সেই ইঙ্গিতও দেওয়া আছে। উইন্টার সোলজার বাকি বার্নেস’কে আটকে রাখা হয়েছে। যাতে তাকে খুঁজতে তার দোসরেরা এলে শত্রুদের একেবারে বাগে পাওয়া যায়। সুতরাং অ্যাভেঞ্জারদের সঙ্গে উইন্টার সোলজারদের সম্মুখ সমরের আগাম বার্তাটা এই ছবিতেই দিয়ে রাখা হয়েছে।

ঘরের মধ্যে ‘যুদ্ধু’
এতদিন বাইরের দুষ্টু লোকেদের শায়েস্তা করতে দেখা যেত ক্যাপ্টেন আমেরিকা কিংবা বাকি অ্যাভেঞ্জারদের। এটা সিভিল ওয়ার। গৃহযুদ্ধ। যেখানে সকলে নিজেদের মধ্যেই মারামারি করে! স্পষ্টত দু’টো দলে ভাগ হয়ে যায় অ্যাভেঞ্জারেরা। একটার নেতৃত্বে ক্যাপ্টেন আমেরিকা স্টিভ রজার্স (ক্রিস ইভান্স)। অন্যটার নেতা আয়রন ম্যান টোনি স্টার্ক (রবার্ট ডাউনি জুনিয়র)। কিছুদিন আগে ‘ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান’ দেখেছেন দর্শক। একই গোষ্ঠীর দুই সুপারহিরো একে অপরের সঙ্গে লড়াই করে। বিষয়টা এখানেও খানিকটা তাই। লড়াইয়ের কারণও এক। ভুল বোঝাবুঝি। হার-জিত স্পষ্ট হয়নি ছবিতে। বন্ধুরা যে শত্রু হয়ে গিয়েছে, এমনও নয়। যেমন ব্ল্যাক উইডো প্রথমে আয়রন ম্যানের পক্ষে থাকলেও ক্যাপ্টেন আমেরিকাকে শেষ পর্যন্ত সাহায্য করে। তাই অ্যাভেঞ্জারদের সখ্য যে শেষ হয়ে গিয়েছে, এমনটা ভাবার কারণ নেই। গল্পের শেষে ক্যাপ্টেন আমেরিকার চিঠি দিয়েই সেটা প্রমাণ করেছেন পরিচালকদ্বয়।

গল্পের চাবিকাঠি
‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’র আগের ছবির রেশ এখানেও আছে। পুরো ফ্র্যাঞ্চাইজি যেন একটা সুতোয় বাঁধা। তাই কখনও খাপছাড়া লাগেনি। যেমনটা ‘ডিসি কমিক্‌স’এর ‘ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান’এ হয়েছিল। অ্যাভেঞ্জারদের মানুষ বাঁচানোর লড়াইয়ে যে বহু ক্ষতিও হয়, সেই সত্যিটা তুলে ধরা হয়েছে এই গল্পে। ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’ সিরিজের প্রথম দু’টো ছবির ‘আপাত’ ভিলেন বাকি বার্নেস এই ছবিতেও আছে। যে আসলে ক্যাপ্টেন আমেরিকার বন্ধু এবং মার্কিন সেনা-অফিসার। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি গ্রুপ ‘হাইড্রা’ তাকে আটক করে এবং বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালিয়ে নিজেদের দলে করে নেয়। যার জন্য বাকি বার্নেস রূপান্তরিত হয় নাৎসিদের উইন্টার সোলজারে। যাকে নিয়ে ক্যাপ্টেন আমেরিকা আর আয়রন ম্যানের বিরোধ। যাকে বলে একেবারে ধুন্ধুমার লড়াই! তৃতীয় পক্ষের উপস্থিতি হিসেবে এখানে ব্ল্যাক প্যান্থারকে নিয়ে আসা হয়েছে। যে অ্যাভেঞ্জার না হলেও সুপার পাওয়ারের অধিকারী। পরের ছবির অন্যতম নায়ক যে ব্ল্যাক প্যান্থার হতে চলেছে, তার ইঙ্গিত ছবিতে রয়েছে।


লড়াইটাই আসল
‘মার্ভেল’এর ছবি। সুপারহিরো ফ্লিক। থ্রি-ডি। সুতরাং অ্যাকশনেই যে বাজিমাত হবে, সেটা বলা বাহুল্য। চিরকালীন বন্ধু অ্যাভেঞ্জারদের লড়াই করতে দেখে মন খারাপ লাগতে পারে। কিন্তু রবার্ট ডাউনি জুনিয়র আর ক্রিস ইভান্সের লড়াই জমে গিয়েছে। যে দৃশ্যটায় ক্যাপ্টেন আমেরিকা হেলিপ্যাডের উপর আসল ভিলেন জিমোর হেলিকপ্টার আটকে দেয় এক হাত দিয়ে, সেটাও অসাধারণ! 

যেটা জমল না
এই ছবি দিয়ে পরিচালকেরা পরখ করে নিচ্ছিলেন নতুন স্পাইডার ম্যান টম হল্যান্ডকে। পিটার পার্কার হিসেবে টমকে দেখে মনে হয়নি তিনি টোবি ম্যাগুয়্যার বা অ্যান্ড্রু গারফিল্ডের উচ্চতায় যেতে পারবেন। তাঁকে নিয়ে ‘স্পাইডার ম্যান হোমকামিং’ তৈরি হচ্ছে বটে, কিন্তু সেটা আদৌ জমবে তো? যদিও ‘...সিভিল ওয়ার’এ স্পাইডার ম্যানকে একেবারে আনকোরা হিসেবেই দেখিয়েছেন পরিচালক। যে কাজের চেয়ে বকবক বেশি করে! আর বাকিদের কাছে বকুনি খায়। দেখতে মজাই লাগে। কিন্তু স্পাইডার ম্যানের সিঙ্গল ফ্র্যাঞ্চাইজি টম কতটা টানতে পারবেন, সে প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে।