হার্লে কুইনের ভূমিকা দেওয়ার সময় এক পুলিশ অফিসার বলে, দ্যাট ইজ আ লট অফ প্রিটি ইন আ লট অফ ক্রেজি! পোর্সেলিন পুতুলের মতো রূপ মার্গট রবি’র! তার সঙ্গে হার্লের ‘শয়তানি’। একটা নিষ্পাপ-নিষ্পাপ হাবভাব এসেছে প্যাকেজটায়। উন্মাদ চরিত্রটির প্রেমে পড়ে যাবেন বেশির ভাগ দর্শক। হার্লের ‘ম্যাডনেসে’ কোনও ‘মেথড’ নেই কিন্তু! পুরোটাই স্বতঃস্ফূর্ত। ধং‌সাত্বক। দরকার পড়লে নিজেকেও শেষ করতে দ্বিধা করবে না সে। এত বেপরোয়া! 
হার্লের অ্যাকশন সিকোয়েন্সগুলো ভাল। প্রতিটার মধ্যে একটা হিউমার আছে। এনচানট্রেসের (কারা ডেলভিন) বানানো বিকট সব দানোদের এলিভেটরের মধ্যে আচ্ছা করে ধোলাই দেয় হার্লে। মারধর হয়ে গেলে চুল-টুল ঠিক করে বন্ধুদের বলে, ‘হাই গাইজ’! আসলে হার্লে জানে, সে সাহসী। লোককে কথায় কথায় ‘কাওয়ার্ড’ বলতেও দ্বিধা করে না সে। উইল স্মিথের চরিত্র, ডেডশট’কে সে জিগ্যেস করে কোনওদিন প্রেমে পড়েছে কি না। ডেডশটের উত্তর, গাদা গাদা লোককে মেরে যে বেড়ালছানার মতো ঘুমোয়, তার প্রেম লাগে না! হার্লে কম যায় না। তাকে বলে, ‘‘অ্যানাদার টেক্সট বুক সোশিওপ্যাথ!’’ 
হার্লে নিজে কোনও নিয়মে বাঁধা নয়। তাই অন্যদের প্রতি তার অবজ্ঞাও রয়েছে। সেটাও কিন্তু প্রেমে পড়ে যেতে বাধ্য করবে। মার্গটের স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় হার্লেকে একটা আলাদা মাত্রা দিয়েছে। ফ্রেমে না থাকলেও মন থাকে চরিত্রটার দিকে।
জোকারের সঙ্গে হার্লের প্রেমকে গুরুত্ব দিয়েছেন নির্মাতারা। তবে ছবিতে জোকারকেই ফিকে লাগবে! হার্লে প্রেমের দৃশ্যেও বেশি উজ্জ্বল। মনে হতে পারে, সে চেয়েছিল বলেই জোকার যেন বাধ্য হয়েছিল তার সঙ্গে বাঁচতে! 


তবে হার্লে যে আসলে কতটা ‘ডেয়ার ডেভিল’ সেটা দেখাতেই ব্যস্ত ছিলেন নির্মাতারা। সে কতটা ‘ইভিল’, সেটা আর দেখিয়ে উঠতে পারেননি! ভিলেনরা হিরো হলে যা করতে হয়, সেই ছকেই এগিয়েছেন। তারই একটা ঘাটতি হল— হার্লে স্বপ্ন দেখে জোকারের সঙ্গে সংসার করার, বাচ্চা মানুষ করার! খুনে-সাইকটিক হার্লের চরিত্রের বাকি দিকগুলোর সঙ্গে সেটা ঠিক খাপ খায়নি! 

হিট

১ স্কোয়াডের প্রতিটা চরিত্রের ব্যাকগ্রাউন্ড ডিটেলিং অসাধারণ। শুরুতেই সব চরিত্রের অতীতের কথা সুন্দরভাবে দেখানো হয়।

২ ছবিতে আগাগোড়া একটা কমিক টোন রয়েছে। বিশেষ করে ডেডশট আর হার্লে কুইনের সংলাপগুলো বেশ মজাদার। রিক ফ্ল্যাগ আর কিলার ক্রকও বেশ মজাদার। ছবির সবচেয়ে ইনটেন্স অ্যাকশন সিকোয়েন্সেও মজার খোরাক খুঁজে পাবেন দর্শক।

৩ আমান্ডা ওয়ালারের চরিত্রে ভায়োলা ডেভিসের অভিনয় অসাধারণ! ছবির মুখ্য খলচরিত্রের চেয়েও ওয়ালারের চরিত্র বেশি শিহরণ জাগায়।

৪ ‘ডিসি’র অন্যান্য ছবির মতোই এই ছবিতেও স্পেশ্যাল এফেক্টস নিয়ে কোনও অভিযোগ নেই। সে এল ডিয়াব্লোর আগুনের ফুলকি হোক বা এনচানট্রেসের অস্ত্র তৈরি করার সময় মায়াবী আলোর কারসাজি।

৫ স্কোয়াডের প্রতিটা সদস্যের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠার দিকে নজর দিয়েছে চিত্রনাট্য। হার্লে কুইন, ডেডশট, বুমেরাং বা কিলার ক্রকের বন্ডিং বেশ জোরাল। সকলের টিম-স্পিরিটও মন্দ নয়।

৬ জোকার আর হার্লে কুইনকে খুব বেশিক্ষণ পরদায় একসঙ্গে পাননি দর্শক। কিন্তু তাদের দু’জনের দৃশ্যগুলো উপভোগ করার মতো। সিক্যুয়েলের অবকাশও এই চরিত্ররাই রেখে যায়।

মিস্‌

১ গল্প! চিত্রনাট্য এত ফ্ল্যাট কেন বোঝা গেল না। গল্পটা কীভাবে জমবে তা নিয়ে একটুও কি ভাবা হয়নি? খলচরিত্রদের একটা মিশনে পাঠানো হল। তারা বাধ্য ছেলের মতো চলে গেল। মিশন শেষ করে ফের ঘরের ছেলে ঘরে ফেরার মতো জেলে ঢুকে পড়ল? একটা এসপ্রেসো মেশিন আর একটা এলইডি টিভির বিনিময়ে। সব এত সোজা!

২ আসল খলচরিত্রে কে এবং কেন, ঠিক বোঝা গেল না। সুপারহিরোরা এক সময় খারাপ হয়ে যেতে পারে ভেবে যারা সত্যিই খারাপ, তাদের নিয়ে টিম গড়া হচ্ছে! কিন্তু কেন? আসল আতঙ্কটা কীসের? এনচানট্রেস তার ক্ষমতা ফিরে পেতে চায়। হঠাৎ তাই তার এক দাদা গজিয়ে গেল! আর সে একটা অস্ত্র তৈরি করার চেষ্টা করে গেল বাকি ছবি জুড়ে। কিন্তু অস্ত্রটা আদপে কী আর তা দিয়ে সে আসলে কী করতে চায়, তা ঠিক বোঝা গেল না।

৩ বেশি চরিত্র একসঙ্গে পরদায় আনতে গিয়ে কিছু কিছু জায়গা বড্ড অবহেলিত। ডেডশট বা হার্লে কুইনকে যতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, সে তুলনায় বুমেরাং কিছুই পায়নি। গোটা মিশনে তার তেমন কোনও ভূমিকা দেখা গেল না। যাঁরা কমিক বই পড়েননি তাঁরা হয়তো কিছু অংশ বুঝতে পারবেন না। যেমন জোকার যেখানে কুইনকে কেমিক্যাল সলিউশনে ঝাঁপ মারতে বলে। এই সলিউশনে পড়েই যে হার্লের ক্ষমতাগুলো তৈরি হয়, সে বিষয়টা পরিষ্কার নয়।

৪ বেশি চরিত্র একসঙ্গে পরদায় আনতে গিয়ে কিছু কিছু জায়গা বড্ড অবহেলিত। ডেডশট বা হার্লে কুইনকে যতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, সে তুলনায় বুমেরাং কিছুই পায়নি। গোটা মিশনে তার তেমন কোনও ভূমিকা দেখা গেল না। যাঁরা কমিক বই পড়েননি তাঁরা হয়তো কিছু অংশ বুঝতে পারবেন না। যেমন জোকার যেখানে কুইনকে কেমিক্যাল সলিউশনে ঝাঁপ মারতে বলে। এই সলিউশনে পড়েই যে হার্লের ক্ষমতাগুলো তৈরি হয়, সে বিষয়টা পরিষ্কার নয়।