‘মধুচন্দ্রিমাটা জেলেই কাটিও’— অজানা নম্বর থেকে এই টেক্সট মেসেজ পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করলেন সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বালুরঘাটের তরুণী তাঁকে ওই হুমকি দিয়েছেন দাবি করে সাংসদ এদিন গড়ফা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। 

ঋতব্রত পুলিশকে জানিয়েছেন, সকালে অজানা নম্বর থেকে তাঁকে ফোন করেন এক মহিলা। তিনি নিজেকে বালুরঘাটের ওই তরুণী বলে পরিচয় দেন। এরপর ওই মহিলা তাঁকে হুমকি দিয়েছেন। যদিও ওই তরুণীর দাবি, তিনি ঋতব্রতের একটি মোবাইল নম্বরে ফোন করেছিলেন। কিন্তু কোনও হুমকি দেননি। তরুণীর কথায়, ‘‘ঋতব্রত আমার গলা শুনেই কয়েকবার হ্যালো বলে ফোন কেটে দেয়। তারপর ওকে বিয়ের শুভেচ্ছা জানিয়ে টেক্সট মেসেজ করি। সঙ্গে এ-ও লিখেছিলাম, ‘নাটক করার প্রয়োজন ছিল না’। বাকি সবটা ও বানিয়ে বলছে।’’

সূত্রের খবর, ঋতব্রত পুলিশকে আরও জানিয়েছেন, ওই নম্বর থেকে তাঁকে কয়েকটি টেক্সট মেজেস পাঠানো হয়েছে। লেখা হয়েছে, ‘নাটক করতে তো ভালই পারো। বিয়ের জন্য শুভ কামনা। মধুচন্দ্রিমাটা জেলেই কাটিও। এতটুকুতেই ভয় পেয়ে গেলে। ওয়াচআউট ফর দ্য ফায়ারওয়ার্কস’। সাংসদ বলেন, ‘‘পুলিশকে গোটা ঘটনাটি জানিয়েছি।’’ ঋতব্রতের ঘনিষ্ঠমহল সূত্রের খবর, বান্ধবী দূর্বা সেনের সঙ্গে এদিন সাংসদের কলকাতার বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি।

গড়ফা থানায় গত ৬ অক্টোবর বালুরঘাটের ওই তরুণীর বিরুদ্ধে ঋতব্রত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেল করে টাকা আদায়ের অভিযোগ তুলেছিলেন সাংসদ। এরপর ওই তরুণী বালুরঘাট থানায় সাংসদের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস এবং অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে মুখ বন্ধের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করেন। সিআইডি তদন্তে নামার পর বালুরঘাট আদালতে ঋতব্রত আগাম জামিনের আবেদন করলে, তা মঞ্জুর হয়। সিআইডি ইতিমধ্যেই সাংসদকে দু’বার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। 

সূত্রের খবর, দূর্বাকে কয়েকবার ফোন করেছিলেন ওই তরুণী। কিন্তু দূর্বা ফোন ধরেননি। এ বিষয়ে দূর্বা কোনও প্রতিক্রিয়া না জানালেও ঘটনাটি পুলিশকে জানিয়েছেন বলে খবর। যদিও বালুরঘাটের ওই তরুণীর বক্তব্য, ‘‘আমার কি মাথা খারাপ হয়েছে যে আমি ওকে ফোন করতে যাব!’’