আলিমুদ্দিনের একসময়ের আদুরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেও দেখা যেতে পারে বিজেপি’র মঞ্চে। কিন্তু কীভাবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়। এই পরিস্থিতিতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন মুকুল রায়। বিশেষত, এই অবস্থায় ঋতব্রতকে কীভাবে সঙ্গী করা যায়, তা ‘ঠিক করার দায়িত্ব’ নিচ্ছেন তৃণমূলত্যাগী নেতা।

এ সম্পর্কে প্রকাশ্যে না হলেও ঘরোয়া আলোচনায় মুকুল বলছেন, ‘‘পড়াশোনা করা ছেলে। রাজনীতিতে থাকা উচিত।’’ তাঁর এক অনুগামীর দাবি, ‘‘দাদা সমমনোভাবাপন্ন সকলকে সঙ্গে চান। ঋতব্রতও তাঁর সঙ্গে আছেন।’’ প্রসঙ্গত, আগামী রবিবার দিল্লি যাওয়ার কথা মুকুল রায়ের। তারপর ৯ বা ১০ অক্টোবর সাংসদপদে ইস্তফা দিতে পারেন তিনি। 

দল বহিষ্কার করলেও এখনও প্রায় আড়াই বছর রাজ্যসভার সাংসদ থাকতে পারেন ঋতব্রত। অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হতেও বাধা নেই তাঁর। এই অবস্থায় তাঁর দিকে নজর রয়েছে বিরোধী দলগুলির। তবে এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতিতে বিজেপি’র ‘বন্ধুমহলে’র দাবি, তাদের পক্ষেই থাকবেন ঋতব্রত। তবে সেক্ষেত্রে তিনি সরাসরি বিজেপি’তে যাবেন, না তাদের বন্ধুপ্রতিম কোনও মঞ্চে দাঁড়াবেন— তা এখনও স্পষ্ট নয়।

সংগঠন বা ভোটের রাজনীতিতে ঋতব্রত তেমন কার্যকর নন। তবে গত লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধী শিবিরের অন্যতম মুখ হিসাবে রাজ্যব্যাপী পরিচিতি তৈরি করতে পেরেছেন। সুবক্তার সেই স্বীকৃতি কাজে লাগাতে আপত্তি নেই বিজেপি’র। এছাড়া, রাজ্যসভায় সাংসদ হিসাবে ঋতব্রত বিজেপি’র শীর্ষনেতৃত্বের পছন্দের। ‘কমিউনিস্ট’ ঋতব্রত দলের মতাদর্শ প্রচারে বিশেষ কাজে আসবেন বলেও মনে করছেন তাঁরা। ঋতব্রতকে সামনে রেখে কিছু সিপিএম তথা অল্পবয়সি বাম নেতা-কর্মীকেও সঙ্গে পাওয়া যেতে পারে। 

আর এমন ক্ষেত্রে ‘সূত্রধার’ হিসাবে দক্ষ দলত্যাগী মুকুল (যিনি বিজয়ার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলে দাবি বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের)।প্রসঙ্গত, রবিবার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকের কথা ছিল মুকুলের।  তা হয়নি। এ প্রসঙ্গে মুকুল এদিন দাবি করেন, অধীরের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত কথা হয়। তার সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক নেই। দিনকয়েকের মধ্যেই জেলা সফরে বেরোতে পারেন তিনি। যা শুরু হবে জঙ্গলমহল থেকে। মুকুলের কথায়, ‘‘রাজনীতিতে থাকব আর জেলায় যাব না!’’