বালুরঘাটের তরুণীর তোলা ধর্ষণের অভিযোগে বিদ্ধ সিপিএম থেকে বিতাড়িত রাজ্যসভা সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই দুই দফায় সিআইডি জেরার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে।

এর মাঝেই জল্পনা চলছিল, ঋতব্রত নাকি মুকুলের হাত ধরে বিজেপি শিবিরে যোগ দিতে চাইছেন। মুকুলের সঙ্গে দিল্লিতে তাঁর বৈঠক হয়েছিল। একই সঙ্গে কয়েকজন বিজেপি নেতার সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ রয়েছে।

তাঁর বিজেপি-যোগের কথা মাথায় রেখেই ধর্ষণ মামলায় রাজ্য পুলিশের তদন্তের তৎপরতা বেড়েছে বলেই মনে করছিলেন ঋতব্রতর ঘনিষ্ঠরা।

সেই মামলা থেকে বাঁচতেই কি ঋতব্রত এবার উল্টো কৌশল নিলেন? জল্পনা বাড়িয়েছেন তিনি নিজেই।

মঙ্গলবার পরিবহণ, পর্যটন, সংস্কৃতি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক নিয়ে টুইট করে কমিটির বর্তমান চেয়ারম্যান তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের প্রশংসা করেছিলেন ঋতব্রত। সেখানে কমিটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান মুকুল রায়ের দিকে সূক্ষ্ণ খোঁচা ছিল। 

বুধবার আরও এক ধাপ এগিয়ে সরাসরি বিজেপিকেই আক্রমণ করলেন ঋতব্রত। এ দিন সকালে টুইট করে তিনি লেখেন, ‘‘সংসদ হল বিতর্ক, আলোচনা ও বিরোধিতার জায়গা। কোনও একটা রাজ্যে নির্বাচনের কথা মাথায় না রেখে সংসদের অধিবেশন হওয়া উচিত। তবে কি সরকার বিরোধীদের ভয় পাচ্ছে?’’

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

আসলে গুজরাত নির্বাচনের আগে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও উচ্চবাচ্য করছে না মোদী সরকার। সাধারণত নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকেই শীতকালীন অধিবেশন শুরু হয়ে যায়। 

বিজেপির ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করে বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকারের দিকেই আক্রমণের তির ছুঁড়লেন কেন সিপিআইএম-এর এই বহিষ্কৃত সাংসদ?

প্রশ্ন উঠছে এখানেই। জল্পনা বাড়ছে, তবে কি তিনি বিজেপি ঘনিষ্ঠতা ছেড়ে তৃণমূল ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছেন? পর পর দু’দিনের দুটি টুইটেই তিনি যেন উত্তরটা দিচ্ছেন। 

আগাম জামিনে থাকা ঋতব্রতকে এখনই গ্রেফতার করবে না সিআইডি। তবে ধর্ষণ মামলায় এই সাংসদকে নাকে দড়ি বেঁধে ঘোরানোর অনেক মশলাই মজুত রয়েছে রাজ্য গোয়েন্দা পুলিশের হাতে।

সেই জন্যই কি ঋতব্রত গেরুয়া ছেড়ে ঘাসফুল শিবিরে যাওয়ার বার্তা দিলেন?