ধর্ষণ মামলায় অবশেষে সিআইডি’র মুখোমুখি হলেন রাজ্যসভার সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে বলে মঙ্গলবার তদন্তকারী সংস্থার কাছে দাবি করেছেন সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত নেতা। আজ, বুধবার ফের তাঁকে তলব করেছে সিআইডি।

মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ ভবানীভবনে ঢোকেন ঋতব্রত। টানা প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। সিআইডি সূত্রের খবর, তদন্তকারীদের কাছে ঋতব্রতের দাবি, বালুরঘাটের যে তরুণী তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছেন, তাঁর সঙ্গে ২০১৬ সালের নির্বাচনের সময় পরিচয় হয়েছিল তাঁর। পরে ‘ঘনিষ্ঠতা’ বাড়ে। ঋতব্রত বিবাহিত জেনেই ওই তরুণী সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন বলে দাবি করেছেন সাংসদ।

সূত্রের খবর, পারস্পরিক সহমতের ভিত্তিতেই তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল বলে সিআইডি’র আধিকারিকদের কাছে দাবি করেছেন ঋতব্রত। সম্পর্ক ছেদের জন্য ওই তরুণী ৫০ লক্ষ টাকা চেয়েছিলেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।

সিআইডি সূত্রের খবর, হোয়াট্‌সঅ্যাপে দু’জনের কথোপকথনের স্ক্রিনশট আগেই কলকাতা পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন ঋতব্রত। সাংসদের দাবির সত্যতা যাচাই করার জন্য তাঁর ল্যাপটপ এবং দু’টি মোবাইল ফোন চাওয়া হয়েছে। এদিন জিজ্ঞাসাবাদের শেষে ঋতব্রত বলেন, ‘‘আদালত আমাকে আগাম জামিন দিয়েছে। তদন্তকারীদের মুখোমুখি হয়েছিলাম। তাঁরা যা জানতে চেয়েছেন বলেছি। তবে আমার মনে হয়, এই ঘটনার পিছনে ষড়যন্ত্র আছে।’’ 

বালুরঘাটের তরুণী অভিযোগ করেছিলেন, তাঁকে ফোন করে ঋতব্রতের সঙ্গে ঝামেলা মিটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের উচ্চপদস্থ আধিকারিক অর্চনা মজুমদার। সেই সূত্র ধরে ঋতব্রতের কাছে এদিন তদন্তকারীরা জানতে চান, তিনি অর্চনাকে চেনেন কি না। সিআইডি সূত্রের খবর, সাংসদ জানিয়েছেন, তিনি অর্চনাকে চেনেন না। সুতরাং তাঁকে দিয়ে ওই তরুণীকে ফোন করানোর প্রশ্নই আসে না।
 
এর আগে দু’বার সিআইডি’র তলব এড়িয়ে গিয়েছিলেন ঋতব্রত। সে ব্যাপারে সিআইডি’কে তিনি জানিয়েছেন, আগাম জামিন সংক্রান্ত নির্দেশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন তিনি।