বিশ্বের দরবারে তিনি কিংবদন্তি। টেনিসের সর্বকালের সেরা। দুনিয়া জুড়ে অগণিত ভক্তের প্রেরণা। নিজের দেশ এবং শহরে কিন্তু রজার ফেডেরার আজও আর পাঁচজনের মতোই সামান্য এক নাগরিক। মহাতারকার জৌলুস নয়, অতি সাধারণ জীবনযাপনেই যাঁর আনন্দ। ‘‘এতে আমার পা মাটিতে থাকে,’’ স্বীকারোক্তি ফেডেরারের।

সুইৎজারল্যান্ডে নিজের শহর ভালবেলা’য় প্র্যাক্টিসটাও করেন সরকারি স্পোর্টস সেন্টারে। ফেডেরারের কথায়, ‘‘ট্রেনিং করি টাকা দিয়ে কোর্ট বুক করে।’’ ফেডেরার বলেই ইচ্ছেমতো ঢোকা যায় না। জানিয়েছেন, ‘‘নির্দিষ্ট সময়ের আগে পর্যন্ত দরজার বাইরে অপেক্ষা করি। উঁকি মেরে দেখি আগের জনরা জিনিসপত্র গোছাচ্ছেন কি না। আমাকে দেখে হয়তো ছবি তুলতে চাইলেন। ওঁরা চলে গেলে কোর্ট আমার।’’

টেনিস রাকেট হাতে কিন্তু অসাধারণ হয়ে ওঠাতেই বিশ্বাসী। কোর্টে নিজের সামান্য বিচ্যুতিও ক্ষমার অযোগ্য। ২০০৮ উইম্বলডনে রাফায়েল নাদালের কাছে পাঁচ সেটে হার আজও মেনে নিতে পারেননি। ফেডেরারের কথায়, ‘‘হারটা আমার কেরিয়ারে বিরাট ধাক্কা। মনে হয়েছিল নিজের ধারটাই হারিয়ে ফেললাম।’’
ঠিক পরের বছরটাই অবশ্য আনন্দধারা হয়ে এসেছিল জীবনে। ‘‘সবচেয়ে সুন্দর সময় ছিল ২০০৯। প্রথমবার ফরাসি ওপেন জিতলাম। প্রথম বাবা হলাম। উইম্বলডন জিতে ভাঙলাম পিট সাম্প্রাসের রেকর্ড। একটা স্বপ্নের গ্রীষ্ম কেটেছিল!’’ উচ্ছ্বসিত শোনায় ফেডেরারকে।

চলতি মরসুমটাও স্বপ্নের কাটছে। তবু প্রশ্নটা তাঁকে শুনতে হচ্ছে মাঝেমধ্যেই— সর্বোচ্চ পর্যায়ে টেনিস আর কতদিন চালিয়ে যেতে পারবেন বলে মনে করেন?

ফেডেরারের জবাব, ‘‘খিদেটা যতদিন আগের মতো থাকবে।’’ যোগ করেছেন, ‘‘প্রত্যেক টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় রাউন্ডে গেলে বুঝব, খেলা চালিয়ে যাওয়ার মতো সুস্থ আছি।’’ কিন্তু নিজেই জানিয়েছেন, অত কমে তৃপ্ত হতে পারবেন না। বলেছেন, ‘‘প্রতি টুর্নামেন্টে ট্রফির লড়াইয়ে পৌঁছনোই লক্ষ্য।’’ টেনিসকে নিজের শর্তে বিদায় জানাবেন, বুঝিয়ে দিচ্ছেন কিংবদন্তি।