সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলে যোগদানের জল্পনা উস্কে দিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! 

মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক পেজ এবং টুইটার হ্যান্ডলে মুখ্যমন্ত্রী জায়গা করে দিলেন বর্তমানে ‘দলহীন’ রাজ্যসভা সাংসদ ঋতব্রতের। 

সম্প্রতি রাজ্যসভার প্রশ্নোত্তর পর্বে ঋতব্রত প্রশ্ন করেছিলেন, এটা কি সত্যি যে কেন্দ্রীয় সরকার বেশ কয়েকটি কর্পোরেট সংস্থাকে দেওয়া প্রায় ২ লক্ষ ৪০ হাজার কোটি টাকার ঋণ হিসাবের খাতা থেকে মুছে (রাইট অফ) দিয়েছে’? মঙ্গলবার আরবিআইয়ের দেওয়া তথ্য উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০১৪-’১৫ অর্থবর্ষ থেকে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির তরফে দেওয়া দু’লক্ষ ৪১ হাজার ৯১১ কোটি টাকা ঋণ হিসাবের খাতা থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে। 

ঋতব্রতের প্রশ্ন এবং উত্তরের প্রতিলিপি এদিন নিজের টুইটার হ্যান্ডলে পোস্ট করে কেন্দ্রকে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। একই প্রতিলিপি ফেসবুক পেজে পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, কর্পোরেট সংস্থাগুলির প্রতি কেন্দ্র তার দায়বদ্ধতা বজায় রেখেছে। কিন্তু সেই সংস্থাগুলির নাম প্রকাশ করেনি। তিনি আরও লিখেছেন, ‘এই প্রশ্ন এবং উত্তরটি আমার নজরে এসেছে। ঋণের বোঝার কারণে দেশের কৃষকেরা যখন আত্মহত্যা করছেন, তখন কেন্দ্র ঋণ মকুবের আর্জিতে কর্ণপাত করছে না। অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের দু’লক্ষ ৪১ হাজার কোটি টাকা (অনাদায়ী ঋণ) ‘রাইট-অফ’ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। আমরা নোটবাতিলের সময় এই নন অনাদায়ী ঋণের বিষয়টি তুলেছিলাম। এবার ঝুলি থেকে বিড়াল বেরিয়ে পড়ল’। 

ঋতব্রতের তোলা প্রশ্ন মুখ্যমন্ত্রী তাঁর টুইটার হ্যান্ড এবং ফেসবুক পেজে পোস্ট করায় দলহীন ওই সাংসদের তৃণমূলে যোগদানের জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ মনে করছেন, ঋতব্রতকে দলে নেওয়ার ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ইতিবাচক মনোভাবেরই ইঙ্গিত দিয়েছেন। ঋতব্রত অবশ্য এনিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। 
মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক দিল্লি সফরে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান ঋতব্রত। কারণ জানতে চাওয়ায় ঋতব্রতের মন্তব্য ছিল, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী দিল্লি এসেছেন। আমি প্রণাম করতে গিয়েছিলাম।’’ তৃণমূল সূত্রের খবর, ঋতব্রতকে রাজ্যসভায় ব্যবহার করার ব্যাপারে দলীয় নেতৃত্বকে পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।