নাগপুরের পিচে বল ঘুরবে কি না, সে প্রশ্ন পরে। ম্যাচের আগেই প্রথম বাউন্সারটা ছুড়লেন মুরলী বিজয়। সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে রীতিমতো আক্রমণাত্মক মেজাজে বিজয় বলে গেলেন, ‘‘দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানদের উপরে যে পরিমাণ চাপ আমরা তৈরি করেছি, সেটা সামনে থেকে দেখা একটা অবিশ্বাস্য ব্যাপার। অনেকটা ইঁদুর-বিড়ালের মতো ব্যাপার। নাগাড়ে তাড়া করে যাওয়া, প্রায় ধরে ফেলা, কোনওক্রমে রক্ষা পাওয়া। ব্যাপারটা শেষ পর্যন্ত আমাদের পক্ষে গিয়েছে।’’

সিরিজে ঠিক এই মুহূর্তে কে বিড়াল আর কে ইঁদুর, আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। মুরলী বিজয়ের ব্যাখ্যা, টেস্ট ক্রিকেট হল চাপ আর পালটা চাপের খেলা। দু’পক্ষই একে অপরকে চাপে ফেলতে মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই ধরনের টানটান প্রতিদ্বন্দ্বিতা যে তিনি ব্যক্তিগতভাবে উপভোগ করছেন, তা-ও জানিয়েছেন ভারতীয় দলের ওপেনার।

যেভাবে মোহালিতে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং ভারতের স্পিন ব্রিগেডের সামনে গুটিয়ে গিয়েছে, তাতে জামথার ভিসিএ স্টেডিয়ামের বাইশ গজে বল ঘুরবে ধরেই নেওয়া যায়। ব্যাটসম্যানদের ফর্ম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘ব্যাটিং নিয়ে মাথাব্যথার কোনও কারণ রয়েছে বলে মনে করি না। সকলেই বড় ইনিংস থেকে একটা ম্যাচ দূরে আছে। হতে পারে এই ম্যাচেই কেউ না কেউ বড় রান পেয়ে গেল।’’

স্পিনিং ট্র্যাকেও ইমরান তাহির সেভাবে সফল নন। ছবি: পিটিআই

দক্ষিণ আফ্রিকার আত্মবিশ্বাস নিয়ে মুরলী বিজয় যে খুব একটা ভুল বলেননি, তার প্রমাণ মিলল মর্নি মর্কেলের কথায়। সাংবাদিক বৈঠকে এসে বলেই ফেললেন, ‘‘অধীর আগ্রহে স্টেইনের সুস্থতার দিকে তাকিয়ে রয়েছি। সকালে নেটে বল করেছে। আমাদের পক্ষে অত্যন্ত সুখকর দৃশ্য। বুধবার সকাল ৯টায় ওকে নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।’’

একটা গোটা দল তাকিয়ে একজন বোলারের দিকে। স্টেইন নিঃসন্দেহে বড় মাপের বোলার। কিন্তু ভারতের পিচে স্টেইনের মতো বোলারের সফল হওয়ার সম্ভাবনা কতটা, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। তার উপর খেলতে পারলে সেটা হবে সদ্য চোট সারিয়ে ফেরা। অথচ, এহেন স্টেইনই এখন ভরসা দক্ষিণ আফ্রিকার।