শহরে ম্যারাথন দৌড়ের ভিড়ে সচিন তেন্ডুলকর খুঁজে নিলেন বাংলার ‘ব্লেড রানার’ আফজল খানকে। তাঁকে বললেন, ‘‘দৌড় থামিও না। তুমি অনুপ্রেরণা। আবার দেখা হবে।’’
রবিবার ম্যারাথন শেষে রেড রোডে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সচিন নিজেই খোঁজ করেন আফজলের। আফজলের ইস্পাতের তৈরি কৃত্রিম ডান পা তাঁর নজরে এসেছিল। মঞ্চের হাজির এক প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়, এরপরই আফজলের সম্পর্কে সচিন জানতে চান। তাঁর দৈনন্দিন লড়াই, একের পর ম্যারাথনে অংশ নেওয়া-সহ নানা বিষয়ে জানতে পারেন মঞ্চে উপস্থিত অনেকের কাছ থেকে। পরে সচিন মঞ্চে ডেকে নেন আফজলকে। নিজের নিরাপত্তারক্ষীকে তাঁর মোবাইল ফোনটিও আনতে বলেন। তারপর সেলফি তোলেন আফজলের সঙ্গে। জড়িয়ে ধরেন তাঁকে। সচিনের নিরাপত্তাকর্মীর তুলে দেওয়া ছবি এদিন দেন তাঁর টুইটারে। সব মিলিয়ে আপ্লুত আফজল। 

এদিন আইডিবিআই’য়ের উদ্যোগে পাঁচ কিলোমিটার ম্যারাথনে অংশ নেন আফজল। আফজল পরে জানান, সচিন তাঁকে ডেকে পাঠান। তাঁর পরিচয় ও নামধাম জিজ্ঞাসা করেন। আফজল বলেন, ‘‘আমাকে সচিন বলেন, তুমি অনুপ্রেরণা। দৌড় চালিয়ে যাও। এভাবে তাঁকে কাছে পেয়ে খুব ভাল লাগছে!’’ সচিন তাঁর টুইটারে ছবি পোস্ট করে অভিনন্দন জানিয়েছেন আফজলকে। দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেছেন আফজলের কথা। আফজল বলেন, ‘‘মিনিট পনেরো ছিলাম সচিনের সঙ্গে। ছেড়ে আসতে ইচ্ছে করছিল না। কিন্তু উদ্যোক্তাদের কথায় চলে আসি। এতদিন শুনেছিলাম উনি মাটির মানুষ। আজ সেটাই দেখলাম নিজের চোখে।’’

কামারহাটির বাসিন্দা আফজল ১৯৯৬ সালের ৯ জানুয়ারি এক দুর্ঘটনায় ডান পা হারিয়েছিলেন। সেদিন দক্ষিণেশ্বর স্টেশনে দূরপাল্লার ট্রেনে আত্মীয়দের তুলে দিয়ে নামতে গিয়ে পড়ে গিয়েছিলেন রেললাইনে। প্রাণে বেঁচে যান কোনওরকমে। ডান পা কাটা পড়েছিল বঙ্গবাসী কলেজের সেই সময়ের মেধাবী আফজলের। তারপরই শুরু হয় লড়াই। পায়ের হাঁটুর নীচের অংশে লাগানো রয়েছে স্টিলের পা। যা দেখলে অনেকেরই মনে পড়ে যেতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকার ‘ব্লেড রানার’ অস্কার পিস্টোরিয়াসের কথা। 

২০১১ সালে স্কুলে শিক্ষকতার পেশায় যোগ দিয়েছেন আফজল। মাধ্যমিকের পর থেকেই ম্যারাথনে অংশ নেওয়া শুরু তাঁর। নিজেকে প্রতিবন্ধী বলতে ভীষণ আপত্তি। এলাকায় জনপ্রিয় আফজল সক্রিয় রাজনীতিও করেন। সিপিএমের কামারহাটি এরিয়া কমিটির সদস্য তিনি। উত্তর ২৪ পরগনার ডিওয়াইএফ জেলা কমিটিরও সদস্য।

Copyright © 2018 Ebela.in - All rights reserved