জোধপুর দায়রা আদালত সলমন খান সংক্রান্ত পুরনো সব মামলার নথি চাওয়ায় শুক্রবার জামিন পেলেন না বলিউডের ‘ভাইজান’। 
আজ শনিবার, বিচারক রবীন্দ্রকুমার জোশীর জামিনের রায় ঘোষণা করার কথা। শুক্রবার শুনানি শুরুর আগে আইনজীবী মহেশ বরা অভিযোগ করেন, সলমনের হয়ে মামলা লড়ার জন্য তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে গ্যাংস্টার রবি পূজারী।


জোধপুর সেন্ট্রাল জেলে বৃহস্পতিবার সারারাত ছটফট করেই কেটেছে সলমনের। রাতে সাধারণ বন্দিদের মতো ডাল-রুটি-সব্জি দেওয়া হলেও সেই খাবার ছুঁয়েও দেখেননি ওই জেলের কয়েদি নম্বর ১০৬। একটি চ্যানেলের দাবি, এক সময়ে নিকটবর্তী আশ্রম থেকে নিজের জন্য আনানো খাবার সলমনকে খেতে অনুরোধ করেন তাঁর ঠিক পাশের সেলের বন্দি আসারাম বাপু। দু’টি কৃষ্ণসার হত্যায় পাঁচ বছর সাজাপ্রাপ্ত সলমনের জেলে ঢোকার পরই রক্তচাপ বেড়ে গিয়েছিল। তবে, পরে তা স্বাভাবিক হয়ে যায়। 
সলমনকে উদ্বিগ্ন মুখে অনেক রাত পর্যন্ত ব্যারাকের বাইরে পায়চারি করতে দেখে রক্ষীরা তাঁকে সেলের ভিতরে যেতে বলেন। সেলের ভিতরে সলমনকে দেওয়া হয়েছে একটি সাধারণ কাঠের খাট, কয়েকটি কম্বল এবং একটি কুলার। রাজস্থানের ডিআইজি (কারা) বিক্রম সিংহকে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে তাঁকে দুধ এবং ভেজানো ছোলা-মুগ দেওয়া হয়। সলমনের অনুরোধে তাঁকে কয়েকটি হিন্দি দৈনিকও দেন কারাকর্তৃপক্ষ। এদিন জামিনের শুনানির আগে আইনজীবী এবং ব্যক্তিগত দেহরক্ষী শেরার সঙ্গে দেখা করেন সলমন। সেলিব্রিটি কয়েদির জন্য জেলে সুরক্ষা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। 


‘ভাইজানে’র শাস্তি, তিনি জামিন পাবেন কি না এবং পেলেও কবে পাবেন, এসব নিয়ে এদিনও উদ্বেগে কাটিয়েছে বলিউড। বিচারক জোশী সলমনের বিরুদ্ধে রাজস্থানের গ্রামীণ আদালত এবং হাইকোর্টে হওয়া মামলার নথিও চেয়েছেন। একটি টেলিভিশন চ্যানেলের দাবি, এদিন জেলেই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান প্রীতি জিন্টা। বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার পর থেকেই সলমনের মুম্বইয়ের বাড়ি গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টে শুভানুধ্যায়ী ও পরিচিতদের ভিড়। রায় ঘোষণার সময়ে পরিবারের সদস্যেরা ছাড়াও সেখানে ছিলেন সলমনের দুই ভাই সোহেল, আরবাজ এবং ভগ্নীপতি আয়ুষ শর্মা। তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে যান আরবাজের প্রাক্তন স্ত্রী মালাইকা, ‘রেস ৩’এর প্রযোজক রমেশ তৌরানি, কন্যা সোনাক্ষীর সঙ্গে শত্রুঘ্ন এবং পুনম সিন্‌হা, স্নেহা উল্লাল, ডেইজি শাহ প্রমুখ।