২৪ ঘণ্টা আগেই ময়দানি ফুটবল ধুন্ধুমারের সাক্ষী থেকেছে। মোহনবাগান গ্যালারিতে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্থা করা হয়েছে রেনবো এফসি-র কোচ তড়িৎ ঘোষের মেয়ে এবং আত্মীয় পরিজনদের। কিশোর ফুটবলারদেরও মারধর করা হয়। কলকাতা ফুটবলে নিরাপত্তা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে এই ঘটনা। তার পরেই সমালোচনার ঝড় উঠেছিল সমাজের প্রতিটি স্তরে।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

এখনও সেই ভয়ঙ্কর ঘটনার হ্যাংওভার কাটাতে পারেননি তড়িৎ ঘোষ। বুধবার এবেলা.ইন-এর তরফে যোগাযোগ করা হলে তড়িৎবাবুর গলায় আতঙ্কের চোরাস্রোত। কাঁপা কাঁপা গলায় তিনি বলে দেন, ‘‘নিরাপত্তা নিয়ে একটা সমস্যা রয়েই গিয়েছে। আলাদা যদি একটি গ্যালারি করে দেওয়া হয় ছোট দলের সমর্থকদের জন্য, তা হলে সমস্যা অনেকটা মিটতে পারে। বড় দলের সমর্থকদের সঙ্গে এক গ্যালারিতে বসলে এমন ঘটনা তো ঘটবেই।’’ 

মঙ্গলবারের ঘটনার তিক্ত স্মৃতি সামলে বুধবারেই তড়িৎবাবু অনুশীলন করিয়েছেন দলকে। তবে আতঙ্ক মাঝেমাঝেই গ্রাস করছে তাঁকে। ‘‘মোহনবাগানে আমাদের ড্রেসিংরুম দেওয়া হয়েছে। ইস্টবেঙ্গলেও হয়তো দেওয়া হবে। তবে ছোট দলের নিরাপত্তা নিয়ে আরও ভাবতে হবে। দর্শকদের মানসিকতা না বদলালে এমন ঘটনা আটকানো মুশকিল।’’

ঠিক এই কারণের জন্য বড় দলের খেলা দেখতে ইস্ট-মোহনে যাওয়াই ছেড়ে দিয়েছেন ছোট দলের নামী কর্তা নবাব ভট্টাচার্য। ময়দানের পোড়খাওয়া কর্তা বলে দিলেন, ‘‘এটা বহুদিনের ট্র্যাডিশন! বড় দলের বিরুদ্ধে খেলা দেখতে কার্যত ভয়ে ভয়ে মাঠে যেতে হয় আমাদের মতো তথাকথিত ছোট দলের হাতে গোনা গুটিকয় সমর্থকদের।  প্রাণ হাতে করেই খেলা দেখে ওরা। আমি পালিয়ে যাই না। বিরক্তি লাগে। এড়িয়ে চলি।’’ 
পাশাপাশি ইউনাইটেড স্পোর্টসের কর্তা আরও জানান, ‘‘ বড় দলগুলোর অঙ্গুলি লেহনে চলে আইএফএ। বিপক্ষ দলগুলোর জার্সির রং-ও ওরা ঠিক করে দেয়। একবার সাদা জার্সি নিয়ে গিয়েও মোহনবাগানের বিরুদ্ধে খেলতে পারিনি আমরা।’’

‘‘নিজের দলের খেলা থাকলে সব স্টেডিয়ামে যাই। কিন্তু ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান মাঠে যাই না, নিরাপত্তার তাগিদেই,’’ জানান নবাব। 

আইএফএ-র বিরুদ্ধে ছোট দলের এমন অভিযোগ বহু পুরনো। নিরাপত্তা থেকে বড় দলগুলির সুবিধা অনুযায়ী সবকিছুর ব্যবস্থা করা। এশিয়ার প্রাচীন লিগে কি সাম্যের বার্তা আনতেন পারবেন আইএফএ সচিব উৎপল গঙ্গোপাধ্যায়? মঙ্গলবার নিগ্রহের ঘটনার পরে উৎপলবাবু জানিয়েছিলেন, অভিযোগ এলে ব্যবস্থা নেবেন। বুধবার তিনি জানান, ‘‘প্রতিপক্ষ দলগুলির জন্য গ্যালারির নির্ধারিত অংশে সমর্থকদের বসতে হবে।’’ জানা গিয়েছে, বাগান-রেনবো ম্যাচের অপ্রীতিকর অবস্থার পরে রেনবো-র এক কর্তার সঙ্গেও মৌখিকভাবে আলোচনা হয়েছে আইএএফ-এর কর্তার।

নবাব ভট্টাচার্য সব শুনে হতাশ গলায় বলে দিলেন, ‘‘আইএফএ তো সরাসরি ঘোষণা করে দিলেই পারে, ছোট দলগুলির সমর্থকদের বাড়িতে বসেই খেলা দেখা উচিত।’’ নিরাপত্তা নিয়ে এত ঢক্কানিনাদ? নির্যাস একটাই, ‘‘কলকাতা আছে কলকাতাতেই।’’