‘বীজ গণেশ’। এমনই এক ধরনের গণেশ মূর্তি দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ভক্তদের মধ্যে। অনেকেই এই মূর্তি বাড়িতে নিয়ে আসার জন্য আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এই গণেশ মূর্তি থেকেই জন্ম নেয় গাছ বা শাকসবজি।

কী মাহাত্ম্য এই ধরনের গণেশ মূর্তির? গণেশের পুজো করে কোনও পুকুর বা জলাশয়ে বিসর্জন না দিয়ে যদি বাড়ির উঠোনেই কোনও মাটির পাত্রে জল ভরে মূর্তিটি বসিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে মাস খানেকের মধ্যেই তা থেকে গজিয়ে উঠবে গাছ বা শাক সবজি।

এমনটা সম্ভব হচ্ছে কী করে? না কোনও জাদু বলে নয়। এমনই ‘বীজ গণেশ’ বানাচ্ছে বিভিন্ন সংস্থা। মূর্তিটি মাটি দিয়ে বানানোর সময়েই তার ভিতরে রেখে দেওয়া হচ্ছে কোনও বীজ। গণেশ পুজো করে বাড়ির মধ্যেই সেই মূর্তিকে জলের মধ্যে ডুবিয়ে রাখলেই, সেই লুকিয়ে রাখা বীজ থেকেই বের হচ্ছে চারা।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

এটাকে ‘গ্রিন গনেশ’ও বলছেন অনেকে। গণেশকে জলে ভাসিয়ে না দিয়ে বাড়ির মধ্যেই ‘জীবন্ত’ রাখার এই প্রক্রিয়াকে অনেকে পুণ্যলাভের একটা বড় উপায় বলে মনে করছেন।

এই মূর্তি তৈরিতে বিশেষ খরচও নেই। সাধারণত এক ফুট লম্বা হয় এই মূর্তি, একটি মাটির টব ও এক প্যাকেট বীজ দিয়েই কেল্লা ফতে। 

‘‘নদী বা সমুদ্র বা কোনও জলাশয়ে বিসর্জন না দিয়ে নিজের ব্যালকনি বা বাগানেই গণেশ বিসর্জন দেওয়া যেতে পারে এক্ষেত্রে। গত বছর ২৫০ টাকায় এক একটি মূর্তি বিক্রি করেছিলাম। তার পরে সারা ভারত থেকেই অর্ডার পাচ্ছি,’’ একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে বলছেন গার্ডেন শপ্পির জয়শ্রী কৃষ্ণন।

এই ধরনের গণেশ মূর্তি পরিবেশবান্ধবও। পরিবেশ বা জল দূষিত হয় না। বিসর্জনের পাঁচ থেকে ২১ দিনের মধ্যেই গাছ বেরিয়ে যায়। কোনও ক্ষেত্রে বিসর্জনের দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে বীজ থেকে অঙ্কুর বেরতেও দেখা গেছে।