মহারাষ্ট্রের একটি ছোট্ট গ্রামের রক্ষাকর্তা নাকি স্বয়ং শনি ঠাকুর। সেখানের বাড়ি-ঘর-দোকানের কোনও দরজার প্রয়োজন হয় না। কারণ, শনিদেবের কৃপা রয়েছে এই গ্রামে। চোর-ডাকাত এখানে কুকর্ম করলেও, গ্রামের সীমানা পেরতে পারে না। 

ভারতে আরও একটি এমন গ্রাম রয়েছে যেখানে কৃপাদৃষ্টি  রয়েছে স্বয়ং মহাদেবের। তিনি নাকি সর্বদাই বিরাজমান কুলুর ‘বিজলি মহাদেব’ মন্দিরে। 

মন্দিরের সামনের ৬০ ফুট লম্বা কাঠের পোল। মন্দিরে যাওয়ার রাস্তা। ছবি: উইকিপিডিয়া

কুলু থেকে মাত্র ২২ কিলোমিটার দূরত্বে, প্রকৃতির মাঝে রয়েছে এই প্রাচীন শিব মন্দির। কিন্তু, চোর-ডাকাত নয়, তিনি গ্রামবাসীকে রক্ষা করেন প্রকৃতির রোষ থেকে।

কথিত, কুলান্ত নামে এক দানব একবার মাথান গ্রাম ভাসিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে সাপের রূপ ধরে আটকে দেয় বিপাশা নদীর গতিপথ। কুলান্তের কুকীর্তি মহাদেব বুঝতে পেরে তাকে মারতে উদ্যত হন। বেশ খানিকক্ষণ যুদ্ধ হওয়ার পরে মারা যায় দানব। এবং তার সাপের দেহ পরিবর্তিত হয় এক বিশালাকার পাহাড়ে, নাম হয় কুলু। 

এক সময়ে এখানেই তৈরি হয় মহাদেবের মন্দির, যা কুলু থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার ট্রেক করলেই পৌঁছনো যায়। মন্দিরের ঠিক সামনেই রয়েছে ৬০ ফুট লম্বা একটি কাঠের পোল। প্রতি বছরই বজ্রপাত হয় এই কাঠের পোলের উপর, বা মন্দিরের ভিতরের শিবলিঙ্গের উপর। যার ফলে, খুব স্বাভাবিক ভাবেই ভেঙে যায় শিবলিঙ্গ। মন্দিরের পুরোহিত সেই টুকরো আবারও জুড়ে দেন আটা ও মাখনের মিশ্রণ দিয়ে। এবং কয়েক মাস পরে সেই শিবলিঙ্গ আবারও আগের মতোই হয়ে যায়।


বিজলি মহাদেবের মন্দির। ছবি: উইকিপিডিয়া

স্থানীয়দের বিশ্বাস, গ্রাম ও গ্রামবাসীদের বজ্রপাতের হাত থেকে বাঁচাতে মহাদেব নিজের উপরেই প্রকৃতির এই কোপ বহন করেন। 

প্রসঙ্গত, বিজলি মহাদেবের মন্দির পৌঁছতে ১০০০ সিঁড়ি চড়তে হয়। এবং সেখান থেকে কুলু ও পার্বতী উপত্যকার সৌন্দর্য দেখা যায় সম্পূর্ণ ভাবে।