জুতো ছোড়া হল জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) ছাত্র সংসদের সভাপতি কানহাইয়া কুমারের দিকে। হায়দরাবাদের বাঘলিঙ্গমপল্লি এলাকায় একটি আলোচনাসভায় আজ ওই ঘটনা ঘটে। জুতো ছোড়ার অভিযোগে দু’জনকে আটক করে পুলিশ। পরে জানা যায়, নরেশ কুমার এবং পবন কুমার নামে ওই দুই ব্যক্তি স্থানীয় ‘গোমাতা রক্ষা কমিটি’র সদস্য।

সুন্দরাইয়া বিজ্ঞান কেন্দ্রম্‌ নামে একটি সংগঠন ‘সাংবিধানিক অধিকার’ শীর্ষক আজকের ওই আলোচনাসভার আয়োজন করেছিল। কানহাইয়ার বক্তৃতা চলাকালীনই দর্শকদের আসন থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে জুতো ছোড়া হয়। তবে জেএনইউয়ের ছাত্রনেতার কাছ পর্যন্ত সেটি পৌঁছয়নি। পরে গন্ডগোলের মধ্যেই বক্তৃতা শেষ করেন কানহাইয়া। হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের আত্মঘাতী গবেষক ভেমুলা রোহিতের মায়ের হাতে আজ নিজের ছাত্রবৃত্তির অর্থের একাংশও তুলে দেন তিনি।

সাংবাদিক বৈঠকে কানহাইয়া দাবি করেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে শেখায়। তাই বিজেপি সুপরিকল্পিতভাবে সেখানে হামলা চালাচ্ছে। পুণের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট, জেএনইউ, আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়— সমস্ত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির ক্যাম্পাস আজ যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।’’ অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে কানহাইয়া জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচটি রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের সময় তিনি প্রচারে যাবেন না।

হায়দরাবাদ থেকে আজ সন্ধ্যার বিমানে বিজয়ওয়াড়া পৌঁছন কানহাইয়া। সেখানে এক বেসরকারি কলেজে তাঁর বক্তৃতা করার কথা ছিল। তার আগেই বিজেপি সমর্থকেরা সেখানে পৌঁছে কানহাইয়া-বিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন। উপস্থিত বামকর্মীদের সঙ্গে তাঁরা বচসাতেও জড়ান। সেখানে সিপিআই কর্মীরা এক যুবককে মারধর করেন বলে অভিযোগ। শেষপর্যন্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়।

এরইমধ্যে গত কয়েকদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের অশিক্ষক কর্মীরা আজ কাজে যোগ দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এম সুধাকর সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে ধর্মঘট তুলে নেওয়া হয়েছে। হস্টেলের রাঁধুনিরাও ফের কাজে যোগ দিয়েছেন।’’ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের গবেষক কৃশানু অধিকারী এবেলা’কে ফোনে  বলেন, ‘‘হস্টেলে বিদ্যুৎ-সংযোগ আবার ফিরে এসেছে। তবে এখনও জল নেই। ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে।’’ উপাচার্যের বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগে ধৃত ২৫ জন ছাত্র এবং দু’জন অধ্যাপককে গতকাল রাতেই বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বিক্ষুব্ধ পড়ুয়ারাই পাম্পে ভাঙচুর চালানোয় জল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করতেও উপাচার্যের তরফে কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি বলে ওই বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।


আরও পড়ুন

জামিনে মুক্ত উমর, অনির্বাণ। ক্যাম্পাসে দাঁড়িয়ে তোপ কেন্দ্রকে

দেশবিরোধী স্লোগান দেন বহিরাগতেরা। বলল রিপোর্ট

আমার আত্মহত্যার জন্য কেউ দায়ী নয়

চাপের মুখে নতিস্বীকার? ৪ গবেষকের সাসপেনশন তুলল হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়
 

 



হায়দরাবাদের পাশে যাদবপুর-প্রেসিডেন্সি। সরব হলেন সেলিমও

হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়ালেন যাদবপুর ও প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। বৃহস্পতিবার যাদবপুরে সাংবাদিক বৈঠক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা, বিজ্ঞান এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র সংসদের পক্ষ থেকে হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া ও অধ্যাপকদের মুক্তির দাবি জানানো হয়। 

কলা বিভাগের ছাত্র সংসদ ‘আফসু’র সাধারণ সম্পাদক শ্রমণ গুহ জানান, হায়দরাবাদের পড়ুয়াদের উপর অগণতান্ত্রিক আক্রণ কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, এফটিআইআই-সহ দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রছাত্রীদের উপর বিজেপি সরকার এই ধরনের ফ্যাসিস্ট আক্রমণ নামিয়ে আনছে। কোনও রাজনৈতিক দলের পতাকা ছাড়া ঐক্যবদ্ধভাবে এর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলন করবেন পড়ুয়ারা। সাংবাদিক সম্মেলনে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। 

হায়দরাবাদের ঘটনার প্রতিবাদে এদিনই কলেজ স্ট্রিটে মিছিল করে নকশালপন্থী ছাত্র সংগঠন ইউএসডিএফ এবং পিডিএসএফ। আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে সিপিএমের রাজ্য কমিটির দফতরে সাংবাদিক বৈঠক করে রায়গঞ্জের সাংসদ মহম্মদ সেলিম অভিযোগ করেন, হায়দরাবাদে পড়ুয়াদের উপর আক্রমণ অসাংবিধানিক। তাঁর দাবি, আন্দোলন থামাতে পড়ুয়াদের খাবার ও জল বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। ইন্টারনেট সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন
আবার যাদবপুরে কাশ্মীরের ‘আজাদি’র দাবি। তুললেন জেএনইউয়ের ছাত্রনেতা