ভাদ্রমাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথিতে হয় গণেশ পুজো। স্মার্তগ্রন্থ ‘নির্ণয় সিন্ধু’ মতে এই দিন বরদা চতুর্থী। বরদা আবার লক্ষ্মীর এক নাম। এই তিথি আবার সৌভাগ্য চতুর্থী নামেও পরিচিত। মানুষ সৌভাগ্য আর ধন লাভের জন্য এই তিথিতে গণেশ আরাধনা করেন।

সুপ্রাচীন কালেও মহাগণেশ নামে এই তিথিতে এই দেবতার পুজো হত। কাশ্মীরের কবি দামোদর গুপ্তের ‘কুট্টনীমতম্’ কাব্যগ্রন্থে এই পুজোর বর্ণনা রয়েছে। গণেশ সিদ্ধির দেবতা হলেও ‘বিদ্যার্থী লভতে বিদ্যাং ধনার্থী লভতে ধনম। পুত্রার্থী লভতে পুত্রান মোক্ষার্থী লভতে গতিম।’ তাই বারবার আমাদের গণেশ আরাধনা।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

গণেশের পুজো করলে অশুভ কর্মবন্ধন থেকে মন মুক্ত হয় এবং সংসারের সবকিছুই মঙ্গলময় হয়ে ওঠে। সনাতন শাস্ত্রে বলা হয়েছে, গণেশের পুজো করলে মানুষ ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্ন ও গ্রহপীড়ায় ভোগে না। সংসারের শোক, দুঃখ, নিরানন্দ দূর হয়।

গণেশের পুজো করলে মনের মালিন্য কেটে যায়। চিত্তে সত্ত্বগুণ আসে এবং ব্যবহারে সাত্ত্বিকতা বাড়ে। বিপদে পড়তে হয় না, বিপদ হলেও বেশিক্ষণ থাকে না। এই তিথিতে গণেশ পুজো করলে দেবী লক্ষ্মীরও আরাধনা করা হয় কারণ, এই তিথিতে দেবী লক্ষ্মী গণেশের সঙ্গে বিরাজ করেন। এই দিন গণেশ আরাধনা করলে শিব শক্তির আরাধনা করা হয়। 
এই সব কারণেই মহারাষ্ট্রের কিশোর কবি জ্ঞানদেব ১২৯০ সালে তাঁর রচিত ‘জ্ঞানেশ্বরী’ গীতায় গণেশকে ব্রহ্মরূপে প্রতিষ্ঠা করেছেন। 

বাল গঙ্গাধর তিলক তাঁর ‘গণেশ উৎসব’-এর মাধ্যমে গণেশকে গণতান্ত্রিক সমাজপতিতে পরিণত করেছেন। ‘গণেশ উপনিষদে’ সেই জন্যই বলা হয়েছে— ‘‘তুমি স্রষ্টা, তুমি পালক, তুমি ধ্বংস, তুমি হর্তা, সর্বোপরি তুমিই মূল সত্য।’’