‘কোই মিল গয়া-’র জাদুকে নিশ্চয়ই মনে আছে। সূর্যের আলো থেকেই যাবতীয় এনার্জি সংগ্রহ করত সে। এবারে বাস্তবের জাদুর খোঁজ পাওয়া গেল পাকিস্তানে। তাও আবার একজন, দু’জন নয়, একেবারে তিনজন। 

পাকিস্তানের তিন ভাই শোয়েব, রশিদ এবং ইলিয়াস হাশিম চিকিৎসক মহলের সামনে এক নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে হাজির। একজনের বয়স ১, দ্বিতীয়জনের ৯, এবং তৃতীয়জনের ১৩। সূর্য ডুবলেই এই তিন ভাই নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তিন ভাইয়ের মধ্যে দিনের বেলা বড় দুই ভাই ক্রিকেট খেলা, বাবাকে চাষের কাজে সাহায্য করার মতো সব কাজই স্বাভাবিকভাবে করতে পারে। কিন্তু সূর্য ডুবতেই কার্যত পক্ষাঘাতে আক্রান্ত রোগীদের মতো অবস্থা হয় তাদের।  যতক্ষণ সূর্যের আলো থাকে, ততক্ষণই স্বাভাবিক আচরণ এবং জীবনযাপন করতে পারে তারা। তিন ভাইয়ের এই আচরণ দেখে তাদের গ্রামের অনেকেই এই তিন ভাইকে ‘সৌর শিশু’ বলে ডাকছে। 

আপাতত পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস-এ চিকিৎসা চলছে এই তিন ভাইয়ের। জন্ম থেকেই তারা এই সমস্যায় ভুগছে বলে চিকিৎসকদের জানিয়েছেন তাদের বাবা। যদিও তার বাকি দুই সম্তানের এমন সমস্যা নেই বলেই চিকিৎসকদের জানিয়েছেন তিনি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এটি অত্যন্ত বিরল একটি রোগ। জন্মগত এই রোগ ম্যাসথেনিয়া সিনড্রোম বলে সন্দেহ করছেন চিকিৎসকরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, এখনও পর্যন্ত গোটা বিশ্বে এই রোগের মাত্র ৬০০ কেস পাওয়া গিয়েছে। তিন ভাইয়ের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, লন্ডন-সহ বিভিন্ন জায়গায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। 

বিরল রোগে আক্রান্ত এই তিন ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য ২৭জন পাকিস্তানের চিকিৎসক এবং ১৩জন আন্তর্জাতিক চিকিৎসকদের নিয়ে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। চিকিৎসকরাও আশার কথা শুনিয়েছেন। পিআইএমএস-এর চ্যান্সেলর জাভেদ আক্রম জানিয়েছেন, চিকিৎসা শুরু হওয়ার পর থেকে তিন ভাইয়ের অবস্থার উন্নতি না হলেও অবনতি হয়নি। ফলে, তাঁদের সুস্থ করে তোলার বিষয়ে আশাবাদী চিকিৎসকরা। আমাদেরও প্রার্থনা, দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরুক শোয়েব, রশিদ এবং ইলিয়াস।