রবীন্দ্রনাথের বিবাহিত জীবন কিংবা বউঠান কাদম্বরী দেবীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নানা অনুমান, নানা কাহিনি অনেকদিনই বাঙালির অন্যতম সরেস চর্চার বিষয়। ফেসবুক থেকে সেমিনার, গবেষণাপত্র থেকে বেস্টসেলার পর্যন্ত এই চর্চার ব্যাপ্তি। নানাবিধ বিতর্কের হার্ডল পেরিয়ে তা নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সহজ কাজ নয়।

২৪ অগ্রহায়ণ ১২৯০। আজ থেকে প্রায় ১৩৫ বছর আগের কথা। ওই দিন বিয়ে হয়েছিল রবীন্দ্রনাথের। খুলনার ভবতারিণী দেবীর সঙ্গে। বিয়ের পর নতুন বউয়ের নাম হয় মৃণালিনী। রবীন্দ্রনাথ কি এই বিবাহে খুশি ছিলেন? রবি ঠাকুরের সম্পর্কের সেই জটিলতাকে উস্কে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি নথি তাঁরই বিয়ের চিঠি। আমন্ত্রণপত্র।

ছাপা নয়। এই চিঠি হাতে লেখা। নির্বাচিত কয়েকজনকে এই রকম চিঠি দিয়ে নিমন্ত্রণ করা হয় রবীন্দ্রনাথের বিবাহে। কেমন ছিল সেই চিঠি? দেখে নেওয়া যাক প্রিয়নাথ সেনকে লেখা চিঠির সেই দুর্লভ ছবি।


রবীন্দ্রনাথের বিয়ের চিঠি। ছবি: ‘আশীর্বাদক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর— শুভপরিণয়’ গ্রন্থ থেকে

চিঠিটি ভাল করে দেখলেই আশ্চর্যজনক কিছু বিষয় চোখে পড়বে—

১। নিজের বিয়ের চিঠি, কিন্তু লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ নিজেই। তাঁরই হাতের লেখা রয়েছে এখানে।

২। চিঠির নীচে সই-ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরেরই।

৩। নিজে লিখছেন, অথচ চিঠির মধ্যে পাত্রের পরিচয় হিসেবে অদ্ভুত ভাবে লেখা— ‘আমার পরমাত্মীয় শ্রীমান্ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শুভবিবাহ হইবেক।’ নিজেকেই নিজের ‘পরমাত্মীয়’ বলছেন কেন?

৪। চিঠির উপরে লেখা ‘আমার motto নহে।’ আমন্ত্রণপত্রের মাথায় এমন কথা লেখার উদ্দেশ্যই বা কী ছিল? কী বোঝাতে চেয়েছিলেন বিশ্বকবি?

জানা যায়, বিয়ে উপলক্ষ্যে এমন চিঠি কবিগুরুর ঘনিষ্ঠেরা অনেকেই পেয়েছিলেন। কিন্তু চিঠির বয়ান নিয়ে রহস্য আজও রয়ে গিয়েছে। অধ্যাপক জগদীশ ভট্টাচার্য তাঁর ‘কবিমানসী’ বইয়ে এই চিঠির প্রসঙ্গে লিখেছিলেন— ‘সমস্তটাই উচ্চাঙ্গের রসিকতা হতে পারে, অথবা হয়তো সবটাই রহস্যাবৃত প্রহেলিকা।’ সেই রসিকতা এখনও খোলসা হয়নি, জট খোলেনি রহস্যের।