চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তিনি ছিলেন দর্শক। ২ সেপ্টেম্বরও তিনি তাই। 

সেদিন তিনি যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বসে মোহনবাগানের দুরন্ত জয় দেখেছিলেন। দিপান্দা ডিকা নিজেকেও ছাপিয়ে গিয়েছিলেন সেদিন। মোহনবাগানের প্রবল আক্রমণের মুখে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গলের। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবকে উড়িয়ে দেওয়ার পরে ডিকা বলেছিলেন, ‘‘আজকে আমরা ৮-০ গোলে জিততে পারতাম।’’  

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

দেখতে দেখতে এসে গেল আরও একটা ডার্বি। রবিবার আবারও একটা ইস্ট-মোহন ম্যাচ। তিনি, সনি নর্দে ভারত থেকে এখন বহুদূরে। মায়ামিতে বসেই গঙ্গাপারের ক্লাবের সব খবরাখবর রাখছেন। রবিবারের ম্যাচের ভবিষ্যদ্বাণীও করে দিয়েছেন তিনি।  

সনির মতে ডার্বিতে গোল করবেন ডিকা। 

২১ জানুয়ারির সেই ডার্বি ছিল আইলিগের। এবার কলকাতা লিগের। সেবারের ডার্বির ঠিক দিন দুয়েক আগেই সনি জানিয়ে দেন, চোটের জন্য তিনি নামতে পারবেন না মাঠে। সুস্থ হওয়ার জন্য উড়ে যাবেন আর্জেন্টিনা। সেখানেই হবে অস্ত্রোপচার। ডার্বি জয়ের পরের দিনই সবুজ-মেরুন-এর তরফে তাঁকে সরকারি ভাবে বিদায় জানিয়ে দেওয়া হয়। চোখের জলে বাগান ছাড়েন হাইতিয়ান ম্যাজিশিয়ান। 

তার পরে গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে গিয়েছে। আর্জেন্টিনা থেকে সনি এখন মায়ামিতে। সেখানে বসেই মোহনবাগানের সব খেলা দেখছেন তিনি। এমনই মোহনবাগান ভক্ত । এখনও নিজেকে মোহনবাগানের সদস্য বলেই মনে করেন। ডার্বি প্রসঙ্গ উঠতেই সনি বলে দেন, ‘‘মোহনবাগানের সব খেলা দেখেছি। খুব ভাল ফুটবল খেলছে মোহনবাগান।’’ 

রবিবারের ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলের বড়সড় পরীক্ষা নিতে তৈরি ডিকা ও হেনরি কিসসেকা। দুরন্ত ছন্দে রয়েছেন ক্যামেরুনের স্ট্রাইকার। উগান্ডান স্ট্রাইকার এখনও জ্বলে উঠতে না পারলেও দুই স্ট্রাইকারের বোঝাপড়া বেশ জমে গিয়েছে। আর এই বোঝাপড়াই লাল-হলুদকে ভোগাবে বলে মনে করছেন বহুযুদ্ধের সৈনিক সনি। তিনি বলেন, ‘‘দিকা আর হেনরির যুগলবন্দি কাজ করতে শুরু করে দিয়েছে। ডার্বিতে দিকা আর হেনরি গোল করবে। মিলিয়ে নেবেন।’’ 

যত সহজে হাইতির মহাতারকা বললেন, ততটাই কি সহজ হবে? ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণও তো জমাটি। রাশিয়া বিশ্বকাপে নেমারদের ঘাম ছুটিয়ে দেওয়া ডিফেন্ডার জনি অ্যাকোস্টা নামবেন ডার্বিতে। পুরো কথা না শুনেই সনি পালটা প্রশ্ন ছুড়ে দেন প্রতিবেদকের কাছে, ‘‘বিশ্বকাপার তো কী হয়েছে?’’ নিজে যখন সবুজ-মেরুন জার্সি পরে মাঠে নেমেছেন, তখন কি ডার্বির আগে এমন ঔদ্ধত্য ঝরে পড়ত সনির কথাবার্তায়? বড় ম্যাচের আগে তো বেশি কথাও বলতেন না। মাঠে নেমে ফুল ফোটাতেন। শিলিগুড়িতে তাঁর ফ্রি কিক থেকে গোলের ভিডিও এখনও ফেসবুকে ভাইরাল। অথচ বাগান থেকে চলে যাওয়ার পরে সনি নিজেই যেন আক্রমণ শানাচ্ছেন তাঁর পুরনো সতীর্থদের জন্য। 

২১ জানুয়ারির ডার্বির আগে ডিকাকে উদ্দীপ্ত করার কাজটা করে গিয়েছিলেন সনি। মাঠে নেমে ক্যামেরুনের স্ট্রাইকার অন্য অবতারে ধরা দিয়েছিলেন। এবারও কি ডিকার জন্য পরামর্শ দিলেন? সনি বলেন, ‘‘আমাদের অধিনায়ক শিলটন পালকে মেসেজ করেছি।’’ কী বললেন মেসেজে? সনির জবাব, ‘‘এটা একান্তই ব্যক্তিগত। শেয়ার করা যাবে না।’’ 

সনির বার্তা নিয়ে ডার্বিতে নামবেন শিলটনরা। মাঠেই দেখা যাবে সনির বার্তা পেয়ে কতটা উদ্দীপ্ত হতে পারে মোহনবাগান। কে বলল সানি নদে মোহনবাগানে নেই?