‘ছাত্র’ সৌরভ অধিকারীর সেদিনের ‘কীর্তি’র কথা মনে পড়লে এখন ‘লজ্জায়’ মুখ ঢাকেন ‘শিক্ষক’ সৌরভ!
২০১৫ সালের ১ জুলাই। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসে টিএমসিপি সমর্থকদের একাংশের হাতে হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন কয়েকজন অধ্যাপক-অশিক্ষক কর্মী। বেনজির ওই বিশৃঙ্খলার সামনের সারিতে দেখা গিয়েছিল কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসে টিএমসিপি পরিচালিত ছাত্র সংসদের তৎকালীন সম্পাদক সৌরভকে। ঘটনা সম্পর্কে কবি শঙ্খ ঘোষ বিবৃতি দিয়ে বলেছিলেন, ‘এই ঘটনা শিক্ষাজগতে ধারাবাহিক সর্বনাশের আরও এক লজ্জাজনক উদাহরণ হয়ে রইল’। 
রাজাবাজার সায়েন্স কলেজের এক টিএমসিপি নেতার হাতে অধ্যাপক ভাস্কর দাসের হেনস্থা হওয়ার ভিডিও শিক্ষামহলে ফের আলোচনায় এনেছে সৌরভকে। ভিডিওতে ভাস্করকে উদ্দেশ্য করে ছাত্রনেতাকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘‘এমন মারব না বাইরে, খুঁজে পাবেন না। আমি সৌরভ নই।’’ 
সেদিনের টিএমসিপি নেতা সৌরভ এখন এম টেক পাশ করে সফ্‌টঅয়্যার কোম্পানি খুলেছেন। বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্রদের তিনি প্রশিক্ষণ দেন। শনিবার ‘এবেলা’কে সৌরভ বলেন, ‘‘সেদিনের ঘটনা নিয়ে আমার অনুশোচনা হয়েছে। স্যর’কে যে ধরনের কথা বলেছিলাম, তা একজন ছাত্র হিসাবে বলা ঠিক হয়নি। শিক্ষক হিসাবে এখন যখন ছাত্রদের মুখোমুখি হই, তখন মনে হয়, আমার সংযত থাকা উচিত ছিল। সেদিন আমার সংযমের অভাব ছিল।’’
ক্যাম্পাসের ভিতরে অবস্থানে বসা শিক্ষক-শিক্ষিকা, অশিক্ষক কর্মচারীদের ঘিরে সৌরভ এবং তাঁর সংগঠনের সদস্যদের হাততালি দেওয়ার ছবি সেই সময় ভাইরাল হয়েছিল। সৌরভের প্রতিক্রিয়া, ‘‘একজন মহিলা অশিক্ষক কর্মচারীর সামনে দাঁড়িয়ে বার বার হাততালি দেওয়া আমার উচিত হয়নি। তাঁর কাছে ক্ষমা চেয়েছিলাম। আজও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হলে চাইব।’’
রাজাবাজার সায়েন্স কলেজের ঘটনা নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি সৌরভ। তাঁর কথায়, ‘‘এখন আমি রাজনীতির বাইরে। কোনও মন্তব্য করব না। এটা রাজনৈতিক বিষয়।’’ ২০১৬ সালের মার্চে শেষবার কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসে এসেছিলেন তিনি। সৌরভ বলেন, ‘‘দলের নির্দেশেই ক্যাম্পাস ছেড়েছিলাম। যে পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাস ছাড়তে হয়েছিল, তা লজ্জাজনক। বলতে বাধা নেই, আমি ক্ষমতার ব্যবহার এবং অপব্যবহার, দুই-ই করেছিলাম। তখন ক্ষমতার দম্ভে বলতে পারতাম না। এখন ক্ষমতায় নেই, তাই বলতে পারছি।’’