রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ পুরনো পরিচয় মুছে কি মূলস্রোতে মিশতে চাইছে? এমন প্রশ্ন প্রথম ওঠে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি তথা সম্পূর্ণ ভিন্ন মেরুর রাজনীতিক প্রণব মুখোপাধ্যায়কে আরএসএসের সর্বোচ্চ প্রশিক্ষণ শিবিরের সমাপ্তি ভাষণ দিতে ডাকার পরে। এর পরে পরেই গত জুলাই মাসে একটি অনুষ্ঠানে দেশের এক নম্বর শিল্পপতি মুকেশ অম্বানীকে আমন্ত্রণ জানায় আরএসএস।

গত ২৪ অগস্ট মুম্বইতে আরএসএস-পরিচালিত সংগঠন ‘নানা পালকর স্মৃতি সমিতি’-র একটি অনুষ্ঠানে রতন টাটা উপস্থিত ছিলেন। সঙ্ঘপ্রধান মোহন ভাগবত ও রতন টাটা ওই অনুষ্ঠানের সূচনায় একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। আরএসএস-এর সঙ্গে রতন টাটার ঘনিষ্ঠতা অতীতেও দেখা গিয়েছে। নাগপুরে সঙ্ঘের সদর কার্যালয়েও গিয়েছেন টাটার কর্ণধার। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে সেই নাগপুর সফরের সময় মোহন ভাগবতের সঙ্গে সাক্ষাৎও হয় রতন টাটার। কিন্তু এই প্রথম বার কোনও প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে এক মঞ্চে পাশাপাশি দেখা যায় ভাগবত ও টাটাকে।

নাগপুরে প্রণব মুখোপাধ্যায়। — ফেসবুক

এবার দিল্লিতে আরএসএসের একটি অনুষ্ঠানে সঙ্ঘের অন্যতম বড় সমালোচক রাহুল গাঁধীকে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে বলে খবর। আরএসএস সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু কংগ্রেস সভাপতিই নয়, সিপিএম নেতা সীতারাম ইয়েচুরিকেও সেই সভায় আমন্ত্রন জানানো হতে পারে।

সোমবার দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলন করে সঙ্ঘের প্রচার প্রমুখ অরুণ কুমার জানিয়েছেন, আগামী ১৭ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে হবে সেই অনুষ্ঠান। তিন দিন ধরে চলবে ‘আগামীর ভারত ও আরএসেএসের দৃষ্টিভঙ্গি’ বিষয়ে বক্তৃতা মালা। উপস্থিত থাকবেন সঙ্ঘ প্রধান মোহন ভাগবত। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষের সামনে সঙ্ঘের বক্তব্য তুলে ধরাই এই অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য। আরএসএস-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমাজের সব ক্ষেত্রের বিশিষ্টদের সামনে তুলে ধরা হবে সঙ্ঘের দর্শন।

মুম্বইতে টাটা ও ভাগবত। — পিটিআই

গত জুন মাসে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আরএসএস-এর অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া নিয়ে তাঁর প্রাক্তন দল কংগ্রেসের অন্দরমহলে অনেক আলোচনা হয়েছে। নাগপুরে সঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাভূমিতে দাঁড়িয়ে আরএসএস-এর স্বয়ংসেবকদের উদ্দেশে বক্তৃতা দিয়েছিলেন প্রণব। তা নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও কোনও মন্তব্যই করেননি কংগ্রেস সভাপতি। এবার তাঁকেই যদি ডাকা হয় তবে কী করবেন রাহুল? এটাই এখন নতুন প্রশ্ন।

সম্প্রতি লন্ডনে একটি অনুষ্ঠানে সঙ্ঘ সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেন কংগ্রেস সভাপতি। রাহুল গাঁধী বলেন, ‘‘আরব দুনিয়ায় ইসলামিক সংগঠনগুলি যে আদর্শ নিয়ে চলে, ভারতে ঠিক সেই কাজটাই করে আরএসএস।’’ জবাবে আরএসএসের পক্ষে বলা হয় ‘ভারত’ সম্পর্কে না জানলে ‘সঙ্ঘ’ সম্পর্কে জানা যায় না। এবার কি তবে রাহুল গাঁধীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাহুলকে ‘ভারত’ চেনাবেন ভাগবত!

২০১৯ সালের গোড়ায় দেশে সাধারণ নির্বাচন। সঙ্ঘ ও বিজেপি—উভয়ের কাছেই এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোদীর কাছে ক্ষমতায় ফিরে আসা যেমন জরুরি তেমনই আরএসএস-এর প্রয়োজন— বড় শক্তি নিয়ে যাবতীয় অধরা স্বপ্ন সফল করা। সেই লক্ষ্যেই কি এবার নতুন পথে আরএসএস?

এদিন অরুণ কুমার অবশ্য রাহুল গাঁধীকে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে স্পষ্ট করে কোনও উত্তর দেননি। তিনি বলেছেন, সঙ্ঘের পক্ষে তালিকা তৈরি হচ্ছে। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিপরীত মতের কৃতি মানুষদেরও আমন্ত্রণ জানানো হবে।