শোনা যায়, কৌশিকী অমাবস্যার দিন তারাপীঠ মহাশ্মশানের শ্বেতশিমূল বৃক্ষের তলায় সাধক বামাক্ষ্যাপা সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। ফলে ওই দিন মা তারার পুজো দিলে এবং দ্বারকা নদীতে স্নান করলে পুণ্যলাভ হয়। অনেকে বলেন ওইদিন এই স্নান করলে কুম্ভস্নানের মতোই পুণ্যার্জন হয়। এই বিশ্বাসে আজও ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ওই দিনটিতে তারাপীঠে ছুটে আসেন। বুধবার দুপুর থেকে কৌশিকী অমাবস্যা পড়েছিল। সারারাত জুড়েই তারাপীঠের মন্দির ভক্তদের ভিড়ে ঠাসা ছিল। রাতভর মা তারার পুজো চলেছে। পুজোয় বিশেষ খিচুড়ি ভোগেরও ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

গতবছর কৌশিকী আমাবস্যার দিনে তারাপীঠে পাঁচ লক্ষ মানুষের সমাগম হয়েছিল। তার মধ্যে রেলপথেই এসেছিলেন প্রায় চার লক্ষের বেশি মানুষ। এবছর সেই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে ধরে নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একদিকে যেমন আলোয় সেজে উঠেছে তারাপীঠ, একই সঙ্গে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার আয়োজন করেছে পুলিশ-প্রশাসন। বুধবার রাত থেকেই বহিরাগত যানবাহন তারাপীঠে ঢোকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এই নির্দেশ বলবৎ থাকবে। তারাপীঠ মন্দিরকে ঘিরে ৩৬টি ক্লোজ সার্কিট টিভি বসানো হয়েছে। তারাপীঠে ঢোকার মুখে তৈরি তোরণ রংবেরংয়ের আলোয় সাজানো হয়েছে। 

তারাপীঠের শ্মশানে তন্ত্রসাধণার আয়োজন।

 

মন্দির চত্বর এলাকায় উর্দিধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের পুলিশও রাখা হয়েছে। বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মহিলা পুলিশ মন্দির চত্বর ঘিরে রেখেছে। তারাপীঠ মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় বলেন, “আমরা মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে ১৫টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা লাগিয়েছি। মোতায়েন করা হয়েছে আড়াইশো বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী”। মদ্যপান করে যাতে কেউ অভব্যতা না করতে পারে, সেই জন্য প্রচুর সংখ্যায় সাদা পোশাকের পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে। 

আরও পড়ুন

রহস্যাবৃত তারাপীঠ: ১০টি জরুরি তথ্য

অ-ভূত অ-পূর্ব: তারাপীঠে তান্ত্রিকের হোম এবং আশ্চর্য আরোগ্য

এই দু’দিন নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এবারই প্রথম বম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড এবং পুলিশ কুকুর রাখা হয়েছে তারাপীঠে। কোনওরকম গুজবে যাতে পুণ্যার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক না ছড়ায়, সেদিকেও সজাগ দৃষ্টি রাখছে প্রশাসন। সকালের দিকে পুণ্যার্থীদের মন্দিরের গর্ভগৃহে ঢোকার ব্যবস্থা থাকলেও সন্ধেবেলায় সেই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। বাইরে রাখা মায়ের চরণ স্পর্শ করেই ভক্তদের সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। বৃহস্পতিবারও একই নিয়ম জারি থাকবে। তবে মন্দিরের দরজা সারারাত খোলা থাকবে। তাই সন্ধের পর গেলে, বাইরে থেকেই ‘তারা মা’কে দর্শন করতে হবে পুণ্যার্থীরা।

দেখুন ভিডিও ১

দেখুন ভিডিও ২