দাহ করা হয়নি। দেহদান করে গিয়েছেন প্রাক্তন স্পিকার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। সেই দেহের অংশই বেঁচে থাকবে অন্যের শরীরে। 

তাঁর ইচ্ছামতোই প্রাক্তন লোকসভার স্পিকার সিপিআইএমের দশ বারের সাংসদ সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের দেহ এসএসকেএম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেয় পরিবার। শুধু নিজের দেহদানই নয়, সারা জীবন দেহদানের প্রচার করে গিয়েছেন সোমনাথ। 

আজীবন কমিউনিস্ট মতবাদে বিশ্বাসী সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের দেহ চিকিৎসার পড়ুয়াদের শিক্ষার কাজে যেমন লাগবে, তেমনই ব্যবহৃত হবে দগ্ধ মানুষের শরীরে। স্কিন গ্রাফটিংয়ের ক্ষেত্রে তাঁর ত্বক ব্যবহার করা হবে বলে এসএসকেএম সূত্রে খবর। সাধারণ ভাবে দেহদানের পরে কোন কাজে তা ব্যবহার করা হচ্ছে, চক্ষুদানের পরে চোখ কাকে দেওয়া হচ্ছে, তা দাতা পরিবারকে জানানো হয় না। 

এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, সাধারণত দু’টি কাজেই ব্যবহার হয় দেহ। আর দু’টি কাজই অত্যন্ত জরুরি। একটি কাজ হল, শিক্ষার্থীদের প্র্যাকটিস ক্লাস আর অন্যটি স্কিন গ্রাফটিং। অগ্নিদগ্ধদের শরীরে পোড়া অংশের সর্বত্র ত্বক গজায় না। অনেক জায়গাতেই ঘা থেকে যায়। এক্ষেত্রে একমাত্র উপায় থাকে স্কিন গ্রাফটিং। সাধারণ ভাবে রোগীর শরীরের সুস্থ অঙ্গ থেকে ত্বক নিয়ে দগ্ধ অংশে লাগানো হয়। কিন্তু শরীরের খুব বেশি অংশ পুড়ে গেলে সেটা সম্ভব হয় না। তখন অন্য দেহের ত্বক দিয়ে চেষ্টা করতে হয়। একশো শতাংশ কাজে না লাগলেও স্কিন গ্রাফটিংয়ের পরে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ উপকার পাওয়া যায়। গ্রাফট করা ত্বক থেকেই নতুন ত্বক গজাতে শুরু করে।

এসএসকেএম সূত্রে খবর, সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের ত্বক এমনই মহৎ কাজে ব্যবহার করা হবে। তিনি অমর হয়ে থাকবেন অচেনা এক মানুষের শরীরে।