বিরোধী থাকার সময়ে বন্‌ধ বা ধর্মঘট ডাকার ব্যাপারে দুর্নাম ছিল তাঁর। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পরে বন্‌ধকে ‘কর্মনাশা’আখ্যা দিয়ে সুনাম কুড়িয়েছেন। বন্‌ধ ব্যর্থ করতে যেভাবে তাঁর সরকার পদক্ষেপ করেছে তা অতীতে দেখা যায়নি। বন্‌ধের দিনে কাজে যোগ না দিলে বেতন কাটার কথা আগেই চালু হয়েছিল রাজ্যে। এবার বন্‌ধের আগের ও পরের কর্মদিবসে কাজ যোগদান বাধ্যতামূলক করেছেন। কিছুটা জোর করে হলেও রাজ্যে বন্‌ধ সংস্কৃতির ছবি অনেকটা বদলেছে। কিন্তু ‘ছুটি’ সংস্কৃতির বদল হল না। বরং আরও বাড়ানোর ইঙ্গিতই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

শুক্রবার সকালেই ইউরোপ সফরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পথে দুবাই বিমানবন্দরে একটি বৈদ্যুতিন সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি রাজ্যে বন্‌ধ ব্যর্থ করার জন্য জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বিরোধীদের নিন্দা করে তিনি বলেন, কর্মনাশা বন্‌‌ধের ফলে রাজ্যের কর্মসংস্কৃতি নষ্ট হচ্ছে। এর পরেই তিনি জানিয়েছেন, বন্‌ধের দিন সরকারি কর্মীরা কাজে যোগ দেওয়ায় তিনি খুশি এবং এর জন্য প্রয়োজনে পুজোর ছুটি একদিন বাড়িয়ে দেওয়া হবে।

মুখ্যমন্ত্রীর এই বন্‌‌ধে কাজ করার পুরস্কার স্বরূপ ছুটি দেওয়ার কথা বলাকে কটাক্ষ করে সিপিএম বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী এবেলা ওয়েবাসইটকে বলেছেন, ‘এটা পুজোর সময়ে একটা কিনলে একটা ফ্রি-এর মতো হয়ে গেল। মুখ্যমন্ত্রী কর্মসংস্কৃতির কথা বলেন, কিন্তু তিনি নিজেই ছুটি বাড়িয়ে দিয়ে কর্মদিবস নষ্টের কথা বলছেন।’ বিরোধিতার সুর চড়িয়ে বিজেপি সভাপতিও মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রস্তাবের নিন্দা করেন। তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রস্তাব বুঝিয়ে দিল তিনি আদৌ রাজ্যে কর্মসংস্কৃতি ফেরানোর ব্যাপারে উদ্যোগী নন।’

আরও পড়ুন

বড় জয় তৃণমূলের। এবার দেশে বিজেপি, কংগ্রেসের সমান সমান মমতার দল

স্কুলে পড়ানো হবে সিঙ্গুর আন্দোলন, মমতার অনশন। জানালেন শিক্ষামন্ত্রী