নীলবর্ণ শৃগালের কথা ছোটবেলা থেকে আমরা জানি। রাতের অন্ধকারে ধোপাদের নীলের গামলায় পড়ে গিয়েছিল সে। কিন্তু এক রাতে গোটা মহল্লার কুকুর কী করে নীলবর্ণ হয়ে যায়, তা কোনও ভূতের গল্পেও পাওয়া যায় না।

সর্বভারতীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এমনটাই ঘটেছে মুম্বই শহরতলির নভি মুম্বই এলাকার তালোজা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়ায়। এই অঞ্চলের পথকুকুরদের অধিকাংশের গাত্রবর্ণ রাতারাতি নীল হয়ে গিয়েছে। স্থানীয় স্তরে ‘কালাজাদু’ বা ওই জাতীয় গুজব ছড়াতে বেশি সময় লাগার কথা নয়। তেমনটা ছড়ায়ও। কিন্তু কুকুরদের নীলবর্ণ ধারণের রহস্য দ্রুত ফাঁস হওয়ায়, অতিলৌকিকবাজরা তেমন সুবিধে করতে পারেননি।

নভি মুম্বই অ্যানিম্যাল প্রোটেকশন সেল-এর প্রধান আরতি চৌহান জানিয়েছেন, এই কাণ্ডের জন্য স্থানীয় কাসাডি নদীর দূষণই দায়ী। সংলগ্ন এলাকার বেশ কিছু রং কারখানা থেকে এই রং নদীতে গিয়ে পড়ে। এলাকার পথ কুকুররা জল পান করতে কাসাডিতে প্রায়শই নামে। ফলে তারা রাতারাতি নীলবর্ণ ধারণ করে।  

বিষয়টি উল্লেখ করে, আরতি চৌহান মহারাষ্ট্র পলিশন কন্ট্রোল বোর্ড-এ অভিযোগ জানিয়েছেন এবং এই দূষণের আশু সমাধান দাবি করেছেন।

প্রসঙ্গত, এলাকার কুকুরেরা নদীতে নামা ছাড়াও এই সব বং কারখানায় প্রায়শই ঢোকে বলে জানা গিয়েছে। যেখান থেকে তাদের প্রায় প্রত্যেকেরই চোখের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। কেবল কাসাডা নদীই নয়, স্থানীয় পুকুর, নালা-নর্দমাতেও রং কারখানার বর্জ্য এসে পড়ছে। মানুষ তো বটেই, এর দ্বারা পশু-পাখি, সরিসৃপ— সকলেই পর্যুদস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আরতি চৌহান।