রামরহিমের ছায়া এবার উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ায়। তবে ইনি ‘বাবা’ নন, ‘মহারাজ’। বছর ছাপ্পান্নের সত্যরূপানন্দ গোবড়ডাঙ্গা সরকার পাড়ায় ‘রামকৃষ্ণ সারদা সেবাশ্রম’ নামে একটি আবাসিক হোম চালাতেন। হাবড়ার বাণীপুরের ইতনা এলাকায় একটি বৃদ্ধাশ্রমও চালাতেন তিনি। এহেন ‘সন্ন্যাসী মহারাজ’-এর কুকীর্তিই এবার ফাঁস হয়ে গেল।

এলাকাবাসীর কাছে ‘মহারাজ’ নামেই পরিচিত ছিলেন তিনি। রবিবার সন্ধ্যায় সেই মহারাজের আসল রূপ প্রকাশ্যে এল। অভিযোগ, আবাসিক হোমের দুই ছাত্রকে নিয়মিত যৌন নির্যাতন করতেন তিনি।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

পুলিশ সূত্রে খবর, মেটিয়াবুরুজ ও তেঘরিয়ার দুই বাসিন্দা জানিয়েছেন তাঁদের ছেলেরা ওই আবাসিক হোমে থাকে। এক জন চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে, আর এক জন ষষ্ঠ শ্রেণিতে। সত্যরূপানন্দের বিরুদ্ধে তাঁদের অভিযোগ, ওই দু’জনকে দীর্ঘদিন ধরে তিনি শারীরিক ভাবে নিগ্রহ করে আসছেন।

পরিবারের তরফ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পস্কো আইনে এই মহারাজকে গ্রেফতার করে হাবড়া থানার পুলিশ। সোমবার অভিযুক্তকে বারাসাত আদালতে তোলা হয়।

দেখুন ভিডিও

 

জানা গিয়েছে, শুধু এই কীর্তিই নয়, মহারাজের বৃদ্ধাশ্রমে থাকা আবাসিকদেরও একাধিক অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সূত্রের খবর, অভিযুক্ত মহারাজ বছর দশেক আগে রামকৃষ্ণ মিশন থেকে বিতাড়িত হন। তার পর নিজেই রামকৃষ্ণ সারদা আশ্রম নামে এই সংস্থাটি চালাতেন। 

অভিযুক্ত মহারাজের সঙ্গে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার রাজনৈতিক প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি ও নেতা-মন্ত্রীর ওঠা-বসা থাকায় স্থানীয় লোকজন এতদিন ভয়ে মুখ খুলতে চাননি। রবিবার আবাসিকদের এই অসহনীয় পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে আসেন। চাপে পড়ে হাবড়া থানার পুলিশ সত্যরূপানন্দকে গ্রেফতার করতে বাধ্য হয়। ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে হাবড়া থানার পুলিশ।