অন্যান্য বছরের মতো এবছরও মাধ্যমিকের মেধা তালিকায় টেক্কা দিল বাঁকুড়া। ৬৯০ পেয়ে মাধ্যমিকে এবছর প্রথম হয়েছে বাঁকুড়ার বিবেকানন্দ শিক্ষায়তন হাইস্কুলের অন্বেষা পাইন। ৬৮৯ পেয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় হয়েছে বাঁকুড়া জেলা স্কুলের মোজাম্মেল হক। শুধু তাই নয়, প্রথম দশজনের মধ্যেও রয়েছে বাঁকুড়ার একাধিক ছাত্রছাত্রী।

অন্বেষার বাঁকুড়া শহরের প্রণব পল্লিতে। ছোট থেকেই পড়াশোনার পরিবেশেই বড় হয়েছে অন্বেষা। তার বাবা স্কুল শিক্ষক, মা পার্শ্বশিক্ষিকা। পড়াশোনা ছাড়াও নাচ, গান ভালবাসে সে। নির্দিষ্ট সময় ধরে  সে পড়াশোনা করত না বলেই জানিয়েছে অন্বেষা। বড় হয়ে চিকিৎসক হতে চায় সে।

সেরা অন্বেষা, দেখুন ভিডিও ১

বাঁকুড়া শহরের তামলীবাঁধে থাকে মাধ্যমিকে এবারে যু্গ্মভাবে দ্বিতীয় মোজাম্মেল হক, প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৯। বাঁকুড়া জেলা স্কুলের এই ছাত্র অবশ্য স্বীকার করে নিয়েছে, এতটা ভাল ফল আশা করেনি। বড় হয়ে চিকিৎসক হতে চায় মোজাম্মেল। মাধ্যমিকের ফল ঘোষণার পরেই বাড়িতে সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে পাড়া, প্রতিবেশীদের ভি়ড়। তার মধ্যেই এই ছাত্র জানালো, বড় হয়ে সে চিকিৎসক হতে চায়। বাড়িতে বাবার কাছেই পড়াশোনা করত সে, মাও সাহায্য করেছেন তাকে।

কী বলছে মোজাম্মেল, দেখুন ভিডিও ২

সাফল্যের আদর, দেখুন ভিডিও ৩

 

সপ্তম স্থানাধিকারী অনিন্দ্যসুন্দর শতপথী। সে বাঁকুড়া জেলা স্কুলের ছাত্র। বরাবরই এই স্কুল মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিকে ভাল ফল করে। অনিন্দ্যসুন্দরও অন্বেষা, মোজাম্মেলর মতো বড় হয়ে চিকিৎসক হতে চায়। তবে পড়াশোনার সঙ্গে ফুটবল খেলতেও ভালবাসে এই কৃতী ছাত্র। বন্ধুদের সঙ্গেও সময় কাটাতে পছন্দ করে সে। সাফল্যের জন্য মূলত স্কুলের শিক্ষকদেরই কৃতিত্ব দিয়েছে অনিন্দ্যসুন্দর। আগামী দিনের পরীক্ষার্থীদের জন্য তাঁর পরামর্শ, শুধু মাধ্যমিক নয়, ভবিষ্যতের কথা ভেবে পড়াশোনা করতে হবে।  

বাঁকু়ড়া থেকেই সপ্তম অনিন্দ্যসুন্দর, বাঁকুড়া জেলা স্কুলের ছাত্র।  কী বলছে সে, দেখুন ভিডিও ৪

 

মাধ্যমিকে ৬৮৮ পেয়ে তৃতীয় হওয়া দীপ্তেশ পাল রামপুরহাট পৌরসভার তেরো নম্বর ওয়ার্ডের সারদা পল্লির বাসিন্দা। তাঁর বাবা ব্যবসায়ী, মা গৃহবধূ। রামপুরহাট দীপেন্দ্রলাল বিদ্যাভবনের ছাত্র দীপ্তেশ বরাবরই মেধাবী ছিল। টেস্টে পেয়েছিল ৬৬৫। তখনই আরও নম্বর বাড়ানোর জেদ ধরে যায় দীপ্তেশের। প্রতিটি বিষয়েই গৃহশিক্ষক ছিল দীপ্তেশের। গৃহশিক্ষকের পড়ানোর সময় বাদেও নিজে সময় পেলেই বই নিয়ে পড়ত। অঙ্ক নিয়ে ভবিষ্যতে পড়াশোনা করে অধ্যাপনা করতে চায় দীপ্তেশ। সত্যজিৎ রায়ের ছবি দেখতে ভালবাসে সে, পছন্দ করে ক্রিকেট খেলাও।

আরও পড়ুন

ঘোষিত হল মাধ্যমিকের ফলাফল। সাফল্যে এবারও টেক্কা জেলার, পিছিয়ে কলকাতা

হাওড়া জেলা স্কুলের ছাত্র  রৌনক চন্দ্র। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৮১।