বাংলাদেশের ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আয়োজিত সাফ গেমসে ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দিতে চলেছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর থানার সুভাষগ্রাম এলাকার বাসিন্দা শুভাশিস বসু। ভারতীয় ফুটবল তারকা সুনীল ছেত্রী এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ না করায় নির্বাচকরা শুভাশিসের উপরেই ভরসা রেখেছেন। ঘরের ছেলে জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় খুশি শুভাশিসের পরিবার।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

মাত্র তিন-সাড়ে তিন বছর থেকেই ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা শুভাশিসের। বাবা প্রদ্যুৎ বসু বড় ছেলেকে ফুটবল প্র্যাকটিসে নিয়ে গেলে বাড়িতে কাঁদতে শুরু করতেন ছোট্ট শুভাশিস। সেই সময় থেকেই বাবা ও দাদার বুঝতে পারেন শুভাশিসের ফুটবলের প্রতি ভালবাসা। বাবা প্রদ্যুৎবাবু নিজেও একজন ফুটবলার। কলকাতার মাঠে বেশ কয়েকটি বড় দলের হয়ে বছরের পর বছর রক্ষণভাগ সামলেছেন।

প্রদুৎবাবু মাত্র তেরো বছর বয়সেই শুভাশিসকে পুনেতে নিয়ে যান প্রশিক্ষণের জন্য। সেখানে কোচ রঞ্জন চৌধুরী অবশ্য শুভাশিসের বয়স কম হওয়ায় প্রদ্যুত বাবুকে ফিরিয়ে দেন। তবে শুরুতেই শুভাশিসের প্র্যাকটিস, ডায়েট চার্ট সবই তৈরি করে দেন তিনি। তবে শিষ্য শুভাশিসকে বেশিদিন অপেক্ষা করিয়ে রাখেননি রঞ্জনবাবু। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই শুভাশিসকে ডেকে নেন রঞ্জনবাবু। শুরু হয় শুভাশিসের যাত্রা।

গত কয়েকবছর বেঙ্গালুরু এফসি দলের হয়ে ফুটবল খেলছেন। এবছরেই শুভাশিস সই করেছেন মুম্বই এফসি দলে। আর সেখানে খেলতে খেলতেই গত সাত মাস আগে ডাক পান ভারতীয় ফুটবল দলে। তার পর থেকেই শুভাশিস জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্য। তবে সিনিয়ররা না থাকায় সাফ গেমসে সরাসরি দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেলেন শুভাশিস।

ছেলের এই উত্থানে খুশি শুভাশিসের পরিবারের সকলেই। প্রদ্যুৎবাবু বলেন, ‘‘দারুণ অনুভূতি হচ্ছে। এই আনন্দ বলে বোঝাতে পারবো না। ভারতীয় দলের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব বিশাল ব্যাপার। আশা করব, শুভাশিস এই দায়িত্ব সঠিক ও সুন্দরভাবে পালন করতে পারবে। আমারও স্বপ্ন ছিল একদিন ভারতীয় দলের হয়ে খেলব। আমি না পারলেও শুভাশিস পেরেছে। এটাই আমাদের কাছে গর্বের।’’

এর সঙ্গে সংযোজন, ‘‘আমরা সকলেই চাই ফুটবল খেলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাক ওরা। যাতে আমরাও সকলকে বলতে পারি আমাদের দেশ ও ফুটবল খেলে। আমারা যেন আগামী দিনে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলতে পারি।’’