ভারতীয় ফুটবলের ‘স্পাইডারম্যান’ সুব্রত পালের শরীরে পাওয়া গেল নিষিদ্ধ ওষুধ। কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে গত মার্চে সিনিয়র দলের ফিফা ফ্রেন্ডলির আগে ১৮ মার্চ জাতীয় শিবির চলাকালীন ফুটবলারদের ডোপ পরীক্ষা করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন সুব্রত।
নিষিদ্ধ ওষুধের নাম টার্বুটালাইন। এবছর জানুয়ারিতে এই ওষুধ বিশ্ব ডোপ বিরোধী সংস্থার (ওয়াডা) নিষিদ্ধ ওষুধের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ভারতীয় ডোপ বিরোধী সংস্থার (নাডা) কাছ থেকে ইতিমধ্যে পরীক্ষার ফল চলে গিয়েছে সুব্রতর বর্তমান ক্লাব শিবাজিয়ান্স কর্তৃপক্ষের কাছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নাডা ৩১ বছর বয়সী গোলকিপারের কাছে লিখিত জবাব চেয়েছে। সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থার সচিব কুশল দাস মঙ্গলবার বলেছেন, ‘‘প্রথম ডোপ পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে সুব্রত। নাডা আরও একবার ওর পরীক্ষা করবে। তাতে যদি সুব্রত দোষী প্রমাণিত হয়, তাহলে চার বছরের জন্য নির্বাসিত হয়ে যাবে সুব্রত।’’
টার্বুটালাইন ব্যবহৃত হয় কাশির সিরাপে। হাঁপানির অসুখে আক্রান্ত রুগীদেরও এই ওষুধ দেন চিকিৎসকরা। কিন্তু ওয়াডার নিয়ম অনুযায়ী, কোনও খেলোয়াড়কে এই ওষুধ ব্যবহার করতে হলে তাঁর টিইউপি (থেরাপিউটিক ইউজ এক্সেমসন) সার্টিফিকেট নেওয়া বাধ্যতামূলক। জাতীয় গোলকিপার মঙ্গলবারই জাতীয় দলের চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। মঙ্গলবার পুণে থেকে ফোনে কথা বলার সময় সুব্রত জানালেন, চিকিৎসকের সঙ্গে সাইপ্রাসে ছুটি কাটানো ভারতীয় দলের ব্রিটিশ কোচ স্টিভন কনস্ট্যান্টাইনের সঙ্গেও এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সুব্রত বললেন, ‘‘জাতীয় দলের চিকিৎসক বলেছেন, তিনি প্রেসস্ক্রিপনে লিখবেন যে, তিনিই আমার কাশি কমানোর জন্য এই ওষুধ খেতে বলেছিলেন।’’


১৩ বছরের ফুটবল জীবনে সুব্রত পাল দ্বিতীয়বার এরকম বড় আঘাত পেলেন। প্রথম ধাক্কা তিনি পেয়েছিলেন কেরিয়ারের শুরুতে, ২০০৪-এর ফেডারেশন কাপে। যা তাঁর কাছে সারাজীবন অভিশপ্ত হয়ে থাকবে। তাঁর গায়ে তখন সবুজ-মেরুণ জার্সি। ডেম্পোর বিরুদ্ধে ছিল ফেডারেশন কাপ ফাইনাল। বক্সের মধ্যে আগুয়ান ডেম্পোর ব্রাজিলীয় স্ট্রাইকার জুনিয়রের শট আটকাতে তাঁর পায়ে ঝাঁপ দিয়েছিলেন সুব্রত। এবং পরমুহূর্তে মাঠেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান জুনিয়র। অভিশপ্ত সেই ঘটনার মানসিক যন্ত্রণা ভুলতে অনেক সময় লেগেছিল সুব্রতর। মনের জোরকে সম্বল করে আবার ফুটবলের মূল স্রোতে মাথা উঁচু করে ফিরে এসেছেন।
মঙ্গলবার আবার সংকটে পড়লেন ১১ বছর ধরে সিনিয়র জাতীয় দলে খেলা গোলকিপার। ২০০৮-এ এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপ চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর থেকেই সুব্রত’কে স্পাইডারম্যান বলা হতো। পরবর্তীকালে অর্জুন পুরস্কারও পেয়েছেন সুব্রত। 
কিন্তু ১৩ বছর আগের মতো এবারও মনের জোরই সম্বল সুব্রতর। ফোনে কথা বলার সময় তাঁর আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য, ‘‘কখনও ফুটবলের সঙ্গে প্রতারণা করিনি। সেই কারণে, আমি নিজেই নাডা’র কাছে আবেদন করছি দ্বিতীয়বার পরীক্ষার জন্য।’’ সঙ্গে যোগ করলেন, ‘‘ইচ্ছাকৃতভাবে ডোপ করলে এখন করব কেন? সেরা ফর্মে থাকার সময়েই করতে পারতাম।’’ সুব্রত জানালেন, আগামী ৩০ এপ্রিল আই লিগের শেষ ম্যাচে তিনি ক্লাবের হয়ে খেলতেও পারবেন। বললেন, ‘‘নাডা’র চিঠিতে লেখা আছে যে, ক্লাব খেলাতে চাইলে আমি খেলতে পারি।’’
২০০৪-এর সেই অভিশপ্ত ফেডারেশন কাপ ফাইনালের পরে সুব্রতর সর্বক্ষণের সঙ্গী হয়েছিল স্বামী বিবেকানন্দের বই। মঙ্গলবার ফোনে কথা বলার সময়েও স্পাইডারম্যান জানালেন, বিপদের দিনে বিবেকানন্দের লেখাই তাঁর মানসিক শক্তি বাড়ায়। এবারও তাঁর মনের লড়াইয়ে সঙ্গী হয়তো সেই বইগুলো!