বেণুদির সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটা পারিবারিক। এবং দীর্ঘদিনের। বেণুদিকে রাজি করিয়ে টেলিভিশনে নিয়ে আসার কাজটা একসময় অগ্নিদেবই (পরিচালক অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায়, সুদীপার স্বামী) করেছিল। সেই থেকেই যোগাযোগটা রয়ে গিয়েছিল। অগ্নির অনেক ধারাবাহিকে উনি অভিনয়ও করেছিলেন। বেণুদি, সাবুদি একসঙ্গেও অভিনয় করেছিলেন। একবার বেণুদির এক ধারাবাহিকে আমি কস্টিউমের দায়িত্বটা সামলেছিলাম। সেই শুরু! ওঁর একটা মায়া পড়ে গিয়েছিল আমার উপর। খুব স্নেহ করতেন আমাকে! 

বহুবার গিয়েছি ওঁর বাড়িতে। আড্ডা দিয়েছি। গল্প করেছি। সেই ফাঁকে আবার বেণুদির থেকে রান্নাও শিখেছি। শেষদিকে, বেণুদি আর রান্না করতে পারতেন না। তাই বংশীদা রান্না করতেন। ইনিই সেই বংশীদা, যাঁর হাতের রান্না উত্তমকুমার নিয়মিত খেতেন। বেণুদি বংশীদাকে বলতেন, ‘সুদীপাকে অমুক রান্নাটা কীভাবে করতে হয়, একটু দেখিয়ে দাও’! বেণুদির হাতে লেখা রেসিপি’র খাতাটা আমার কাছে রয়েছে। এখানেও একটা মজা রয়েছে! আর পাঁচটা রান্নার বইয়ের মতো— উপকরণ, প্রণালী... এইভাবে খাতাটা লেখেননি উনি। পুরোটাই লিখেছেন চলিত ভাষায়। যেমন ধরুন, ‘প্রথমে কড়াইশুঁটি সেদ্ধ করে নাও। তারপর অমুকটা বেটে নাও...’— এইভাবে। 

শুধু রান্নাই নয়, বেণুদি আমাকে সংসার করতেও শিখিয়েছিলেন। যখন অগ্নিকে বিয়ে করেছিলাম, তখন আমাকে খুব কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল। আমি উত্তর কলকাতার এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে। আর অগ্নির ব্যাকগ্রাউন্ড হল ফিল্ম। সব সময় অগ্নিকে সুন্দরী নায়িকারা ঘিরে রয়েছে, এই ব্যাপারগুলো মেনে নিতে পারছিলাম না। হয়তো মুখ ফুটে কিছু বলতাম না, কিন্তু মেনেও নিতে পারতাম না। ভিতরে ভিতরে কষ্ট হতো। বেণুদিই আমাকে বুঝিয়েছিলেন, ‘তোমার স্বামী হ্যান্ডসাম। তিনি কেরিয়ারে সফল। তাঁকে মেয়েরা দেখবে, কিংবা তিনিও মেয়েদের দিকে তাকাবেন— এটাই স্বাভাবিক’! এটা একটা উদাহরণ মাত্র। এই রকম হাজারো সাংসারিক খুঁটিনাটি উনি আমাকে শিখিয়েছিলেন। আমাকে বুঝিয়েছিলেন, সংসারে মেয়েদের কীভাবে সবদিক সামলে চলতে হয়। ‘সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে’— এই কথাটার মর্মার্থ বেণুদিই আমাকে বুঝিয়েছিলেন।