মুখ্যমন্ত্রীর বন্‌ধ বিরোধী হুঙ্কারে এবার কৌশিকী অমাবস্যা জমেনি তারাপীঠে। তবু মদ বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুণ। সেটাও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের দৌলতে।

অবৈধ মদ ব্যবসা ঠেকাতে এবার সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত মদের দোকান সারা রাত খুলে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। ৩১ অগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর ছিল কৌশিকী অমাবস্যা। প্রতিবছর লাখ পাঁচেক মানুষের সমাগম হয় তারাপীঠে। এই দু’দিন যেখানে মানুষের তিল ধারণের জায়গা থাকে না সেখানে এবার বেশ কিছু হোটেলের ঘর ফাঁকা পড়ে ছিল। হোটেল ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, ২ সেপ্টেম্বর ছিল সাধারণ ধর্মঘট। মুখ্যমন্ত্রী সমস্ত সরকারি কর্মচারীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন ধর্মঘটের দিন এবং তার আগের দিন অফিসে হাজিরা দিতেই হবে। কোনও রকম ছুটি দেওয়া হবে না। এই কারণেই একটা বড় অংশের মানুষ তারাপীঠমুখো হননি। এই দাবি মেনে নিয়েছেন তারাপীঠ মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায়ও। তিনি বলেন, ‘‘প্রথমত এক দিনের বেতন কেটে নেওয়ার হুমকিতে সরকারি কর্মচারীরা এবার তারাপীঠে আসেননি। তাছাড়া ধর্মঘটের দিন ফিরে যাওয়ার সমস্যার কথা ভেবেও একটা বড় অংশের মানুষ আসেননি। অন্যদিকে বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতির কারণে বহু মানুষ আসতে পারেননি। তাই এবার পুণ্যার্থীর সংখ্যা কম হয়েছে”। 

রেলের হিসেবে এবার ৬৪ হাজার মানুষ সাধারণ টিকিট কেটে তারাপীঠে এসেছেন। আসন সংরক্ষণ করে যাতায়াত করেছেন ১৭ হাজার যাত্রী। যা গতবারের তুলনায় ৩০ হাজার কম। পুণ্যার্থীর সংখ্যা কম হলেও এবার মদ বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুণ। জেলা আবগারি দফতরের হিসেব বলছে, এবার ৩ কোটি ২৫ লক্ষ টাকার মদ বিক্রি হয়েছে। গতবারের তুলনায় যা দ্বিগুণ। 

আরও পড়ুন

জবার মালা থেকে মাথার খুলি— কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠ দর্শন

অঘোরী সন্ন্যাসীরা কোন মন্দিরে উপাসনা করেন?

অ-ভূত অ-পূর্ব: তারাপীঠে তান্ত্রিকের হোম এবং আশ্চর্য আরোগ্য

সবথেকে বেশি বিক্রি হয়েছে দেশি মদ। গতবার যেখানে ৪২ হাজার ৪৮৮ বোতল দেশি মদ বিক্রি হয়েছিল, এবার সেখানে ৪টি দোকান থেকে বিক্রি হয়েছে ৭১ হাজার ০১৯ বোতল। যার মূল্য ৩৯ লক্ষ টাকার কিছু বেশি। ৮টি দোকান থেকে বিলিতি মদ বিক্রি হয়েছে ২ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকার। আর বিয়ার বিক্রি হয়েছে ২৩ লক্ষ ৬৬ হাজার টাকার। তারাপীঠের এক মদ ব্যবসায়ী মেঘনাথ সাহা বলেন, ‘‘প্রশাসন এবার মদ বিক্রির উপরে ঢালাও ছাড়পত্র দেওয়ায় বিক্রি বেড়েছে। সেই সঙ্গে মানুষের মৃত্যু রোধ করা গিয়েছে। কারণ, এবার তারাপীঠের যাত্রীরা অবৈধ মদ হাতের কাছে পাননি।’’ 
রামপুরহাট মহকুমাশাসক সুপ্রিয় দাস বলেন, ‘‘অবৈধ মদ বিক্রি রুখতে আমরা আগেই সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত মদের দোকানগুলিকে সারারাত খোলা রাখার ছাড়পত্র দিয়েছিলাম। মানুষ সহজে দোকান থেকে মদ পেলে অবৈধ মদের দিকে ঝুঁকবে না। এটাই ছিল আমাদের ভাবনা। আমরা সেক্ষেত্রে সফল হয়েছি।’’