রাজাবাজার সায়েন্স কলেজে গত মঙ্গলবার তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (টিএমসিপি) নেতার হাতে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ করেছিলেন অধ্যাপক ভাস্কর দাস। সোমবার সকালে ‘এবেলা’র হাতে এসেছে মোবাইলে তোলা একটি ভিডিও ফুটেজ (ওই ফুটেজের সত্যতা অবশ্য যাচাই করেনি এবেলা)।

ওই ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, চেয়ারে বসে রয়েছেন ভাস্কর। সামনের টেবিলে কম্পিউটার। ভাস্করের সঙ্গে কথা বলছেন দু’জন। একজন অধ্যাপককে মারের হুমকি দিচ্ছেন এবং ‘তুই’ বলে সম্বোধন করছেন। অধ্যাপক নির্বাক! চোখে ভয়ের ছাপ! ভিডিও ফুটেজে ওই দু’জনকে যা বলতে শোনা গিয়েছে, তার অংশবিশেষ হুবহু তুলে ধরা হল—

ভাস্করের দিকে আঙুল তুলে প্রথমজন: ‘‘এমন মারব না বাইরে, খুঁজে পাবেন না। আমি সৌরভ নই।’’
দ্বিতীয়জন: ‘‘এখানে কি কুটা (সিপিএম প্রভাবিত শিক্ষকদের সংগঠন) করতে চাইছেন।’’
দ্বিতীয়জনকে প্রথমজন, ‘‘মার মার মার।’’ 
ভাস্করকে দ্বিতীয়জন: ‘‘এই ছেলেগুলোকে আপনি জবাব দেবেন? ...যখন সবকিছু ঠিক হয়ে যাচ্ছিল, তখন আপনি কেন কেস ঠুকে দিলেন?’’ 
ভাস্করের সামনে থাকা কম্পিউটারের কি-বোর্ড উল্টে দেন প্রথমজন। তারপর ভাস্করের দিকে আঙুল তুলে হুঁশিয়ারি: ‘‘ওই... আপনি লিখিত দিন....।’’ অধ্যাপক কম্পিউটারের কি-বোর্ড তোলেন। অতঃপর ভাস্করকে প্রথম ছাত্র:. ‘‘ওই ওই। শুনুন আমি পাগলা। আমি সৌরভ অধিকারী নই। মারব না বাইরে এমন।’’
দ্বিতীয়জনকে প্রথমজন: ‘‘তুই মারতে পারছিস না!’’ 
দ্বিতীয়জন: ‘‘কেন মারব স্যারকে? মারার তো দরকার নেই।’’ 
ভাস্করের দিকে আঙুল তুলে প্রথমজন: ‘‘বল সরি। ভুল হয়েছে। বলুন। বল ভুল হয়েছে (তিনবার)।’’ কম্পিউটারের কি বোর্ডে ভারী কোনও বস্তুর আঘাত প্রথমজনের। 
ভাস্করকে প্রথমজন: ‘‘বল ভুল হয়েছে, বল। মারব আমি কিন্তু। বাইরে বেরতে দেব না। অ্যাই সরি বলুন। আমি দাঁড়িয়ে থাকব।’’ 
দ্বিতীয়জন: ‘‘নাহলে ছেলেদের ডাকব স্যার’’। 
ভাস্করকে প্রথমজন: ‘‘অ্যাই ডাক ডাক।’’

এদিন ভাস্কর বলেছেন, ‘‘ওই ভাষাতেই সেদিন আমাকে আক্রমণ করা হয়েছিল। চড়-ও মারা হয়েছিল।’’ তবে চড় মারার দৃশ্য ওই ভিডিও ফুটেজে নেই। ঘটনায় মূল অভিযুক্ত টিএমসিপি নেতা গৌরব দত্ত মুস্তাফি ইতিমধ্যেই আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন। ভিডিও ফুটেজ সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়ে তাঁকে ফোন করা হয়েছিল। ফোন বেজে গিয়েছে।