বাংলা টেলিভিশনের বর্তমান সময়ের ট্রেন্ড যতই ফ্যামিলি ড্রামা হোক না কেন, কয়েকটি ধারাবাহিক কিন্তু এই ট্রেন্ড অনুসরণ করে না। এই মুহূর্তে যতগুলি ধারাবাহিক সম্প্রচারিত হচ্ছে বিভিন্ন বিনোদন চ্যানেলগুলিতে সেই তালিকায় কখনওই রাখা যাবে না ‘জগজ্জননী মা সারদা’-কে। এই বায়োপিকধর্মী ধারাবাহিকটি সেই দর্শকের জন্য নয় যাঁরা টিভির পর্দায় শুধুই ছকবাঁধা বিনোদনের সন্ধান করেন। খুবই ‘টার্গেটেড অডিয়েন্স’-এর জন্য এই ধারাবাহিক এবং এই মুহূর্তে বাংলা টেলিভিশনের একমাত্র বায়োপিকধর্মী ধারাবাহিক। যাঁরা শ্রী ঠাকুর, মা সারদা বা স্বামীজির আদর্শ-দর্শনকে শ্রদ্ধা করেন, তাঁদের কাছে এই টেলি-বায়োপিকটি অত্যন্ত আদরণীয়।   

‘অন্যান্য ডেইলি সোপ যতটা টিআরপি-নির্ভর, আমাদের ক্ষেত্রে সেটা কখনওই হবে না। কারণ পুরোটাই তো ‘কথামৃত’ বা স্বামী গম্ভীরানন্দের বই থেকে নেওয়া, তাই ওঁরা যতটা যেমন লিখেছেন, সেভাবেই আমরা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি ধারাবাহিকটিকে। তাছাড়া সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় বা আমাদের অন্যান্য যাঁরা পরামর্শদাতা রয়েছেন, তাঁরা যেভাবে গাইড করছেন, আমরা সেভাবেই এগোচ্ছি। আসলে মা-কে নিয়ে তো কখনও সেভাবে কোনও কাজ হয়নি। তাই ঠাকুর ও মায়ের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ যে মানুষগুলি ছিলেন, তাঁদের সবাইকেই আমরা ছুঁয়ে যাচ্ছি বা যাব। তবে একটা কথা বলাই যায় যে টিআরপি-নির্ভর হয়ে না চলেও, ঠাকুরের ইচ্ছায় আমাদের টিআরপি ভালই রয়েছে।’ 

কতটা জনপ্রিয় এই ধারাবাহিক তার একটি ছোট্ট উদাহরণ— ধারাবাহিকের বর্ষপূর্তিতে গত ২০ ফেব্রুয়ারি আকাশ ৮-এর সোশ্যাল মিডিয়া পেজে শেয়ার করা হয়েছিল ধারাবাহিকেরই একটি পর্ব থেকে নির্মিত ভিডিও। ইতিমধ্যেই ৩৫ হাজার ভিউ হয়েছে ভিডিওটি এবং ওই পেজে দর্শকরাও ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ধারাবাহিকটির।

সম্প্রতি ধারাবাহিকে শুরু হয়েছে স্বামী বিবেকানন্দের ট্র্যাকটি। এর পরে ঠাকুর ও মায়ের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক চরিত্রগুলি যেমন গিরীশ ঘোষ বা ভগিনী নিবেদিতাকেও দেখতে পাবেন দর্শক। এখনও পর্যন্ত ওই চরিত্রগুলির কাস্টিং চূড়ান্ত হয়নি কারণ সুশান্তবাবু জানালেন যে, অভিনেতা-অভিনেত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত সতর্ক। ধারাবাহিকটি যাঁরা নিয়মিত দেখেন, তাঁরা জানেন, একেবারেই নাটকীয়তা-বর্জিত, নির্মেদ এই ধারাবাহিক। ইতিহাসের পুনর্নির্মাণে যেমন অত্যন্ত যত্ন নেন পরিচালক-চিত্রনাট্যকার, তেমনই অভিনয়ে অত্যন্ত সাবলীল কলাকুশলীরা। 

শ্রী ঠাকুরের চরিত্রে সুমন কুণ্ডু ও মায়ের চরিত্রে অর্পিতা মণ্ডল এক কথায় অসাধারণ। বেশ কিছুদিন হল শেষ হয়েছে অনুরাধা রায়ের ট্র্যাকটি। রাণী রাসমণির চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করেছেন এই বর্ষীয়ান অভিনেত্রী। এছাড়া লাটু মহারাজ-এর ভূমিকায় ফাল্গুনী সান্যাল, শ্রী ম-এর চরিত্রে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বা সম্প্রতি নরেনের ভূমিকায় দেবাঞ্জন চট্টোপাধ্যায়— প্রত্যেকেই অভিজ্ঞ অভিনেতা। 

সব মিলিয়ে একেবারেই অন্যমাত্রার একটি অভিজ্ঞতা ‘জগজ্জননী মা সারদা’। আক্ষরিক অর্থেই একটি সমৃদ্ধ হওয়ার মতোই ধারাবাহিক।