কথিত, মুঘল সম্রাট শাহজাহানের সময় থেকেই রয়েছে দিল্লির ‘ঝান্ডেওয়ালাঁ’ মন্দির। দেবী সরস্বতী ও কালী এই মন্দিরের অধিষ্ঠাত্রী দেবী। তাঁরা পূজিতা হন আদি শক্তি রূপে।

রাজধানী শহরের করোল বাগ অঞ্চলের এই মন্দিরের প্রাচীনত্ব নিয়ে কোনও প্রশ্ন থাকলেও, এর আধুনিক মানসিকতা সত্যিই চমকে দেওয়ার মতো।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মন্দিরে দৈনন্দিন ভক্ত সমাগম হয় ৫ থেকে ১০ হাজার। স্বাভাবিকভাবেই সকলে তাঁদের আরাধ্য দেবীকে ফুল অর্পণ করেন। দেখা গিয়েছে, প্রতি দিন প্রায় ২০০ কিলোগ্রাম এমন ফুল জড়ো হয় মন্দিরে। প্রসঙ্গত, মঙ্গল ও রবিবার এই ফুলের ওজন বেড়ে হয় প্রায় ৫০০ কেজি। নবরাত্রির সময় তা পৌঁছয় এক টনের কাছাকাছি। 

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

এত ফুল-পাতা জলে ফেলার অর্থ দূষণের সৃষ্টি। তাই এক অভিনব পদক্ষেপ নিয়েছে ঝান্ডেওয়ালান মন্দির কর্তৃপক্ষ। মন্দিরে পুজোর ফুল জমিয়ে রাখা হয়। দু’ সপ্তাহ অন্তর, শুকনো ফুলপাতার সঙ্গে কাঠের গুঁড়ো ও এক ধরনের ব্যাক্টেরিয়া মিশিয়ে দিয়ে দেওয়া হয় একটি বিশেষ মেশিনে। গন্ধহীন যে বস্তুটি তৈরি হয় তা দিয়ে হয় ধূপকাঠি। হরিয়ানার বেশ কিছু গ্রাম ও স্কুলে তৈরি হয় এই ধূপকাঠি। 

অ্যাঞ্জেলিক ফাউন্ডেশন নামে একটি সংস্থা তৈরি করে মেশিনটি। সাহায্য করেন লোকসভার সাংসদ মীনাক্ষ্মী লেখি। 

এর ফলে যে শুধুমাত্র পরিবেশ দূষণমুক্ত থাকছে তাইই নয়, উপকৃত হচ্ছে দরিদ্র চাষীরাও।

কানপুরের ৪৯টি মন্দির এই কাজ করছে ২০১৫ সাল থেকে। মুম্বইয়ের ১৫টি মন্দিরেও পুজোর ফুলপাতা রেখে দেওয়া হচ্ছে একই কারণে। 

আর এক মাস পরেই কলকাতা ও বাংলার গ্রামে গ্রামে শুরু হবে দুর্গাপুজো। বাংলাও কি হাঁটতে পারে না এই পথে?