কচ্ছপ নিয়ে ভাবিত হয়নি, এমন সংস্কৃতি নজিরবিহীন। বিশ্বের অধিকাংশ দেশের সংস্কৃতিতেই তাকে নিয়ে চলিত রয়েছে অসংখ্য কিংবদন্তি। ভারতে তো বটেই, জাপান, চিন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও কচ্ছপ এক সৌভাগ্যপ্রদানকারী জীব হিসেবে বিবেচিত।

হিন্দু ঐতিহ্যে সে দশাবতারের অন্যতম, বিষ্ণুর এক রূপ। বিভিন্ন কিংবদন্তিতে বিশ্ব ধারণ করে রয়েছে এক মহাকচ্ছপ, এমনটা হামেশাই পাওয়া যায়।

গঙ্গাদেবীর বাহন মকর, কিন্তু আর এক পবিত্র নদী-দেবী যমুনার বাহন কচ্ছপ।

সুফি ঐতিহ্যে কচ্ছপের সমুদ্রতটে ডিম পাড়া ও শিশু কচ্ছপদের সমুদ্রে ফিরে যাওয়ার ঘটনাকে পরম শক্তির সঙ্গে মানুষের সম্মিলনের সঙ্গে তুলনা করা হয়।

প্রাচীন মেসোপটেমিয়ায় কচ্ছপকে ইয়া নামক এক দেবতার বাহন বলে মনে করা হত।

চিনের পরম্পরায় কচ্ছপকে ঐশ্বরিক প্রাণী বলে বর্ণনা করা হয়। তার দীর্ঘায়ু এবং অবিচলিত স্বভাবকে অনুসরণীয় বলে জানানো হয়।

ফেং শ্যুই মতে কচ্ছপ অতি সৌভাগ্যপ্রদানকারী প্রাণী। যে কোনও গৃহে সে সৌভাগ্যকে সূচিত করতে পারে।

আরও পড়ুন

হাজার বছরের পুরনো শহর মাটির নীচে, সাক্ষী এক প্রাচীন মন্দির

বিশ্বে প্রচলিত কয়েকটি পৌরাণিক গল্প...

লম্বা চুলের রূপকথার রাপানজেল, এখন থাকে চিন দেশে!

ফেং শ্যুই শাস্ত্র জানায়, কচ্ছপের মূর্তি তো বটেই, বাড়িতে অ্যাকোয়ারিয়ামে কচ্ছপ পোষাও সৌভাগ্যের সূচনা করতে পারে। ভারতীয় ঐতিহ্যে অবশ্য গৃহে কচ্ছপকে বন্দি করা নিষিদ্ধ।

এই বিশ্বাসগুলিই কচ্ছপকে এক আশ্চর্য স্থান প্রদান করে বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতিতে। কচ্ছপের খোলা বাড়িতে রাখা, টার্টল ব্যান্ড ধারণ করা ইত্যাদি সৌভাগ্য এনে দিতে পারে বলে বিশ্বাস করেন লক্ষ লক্ষ মানুষ।