ফের তারাপীঠের কর্মতীর্থের উদ্বোধন হল। এ বার করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই প্রকল্পের তিনবার উদ্বোধন দেখে হাসল তারাপীঠ। আর এমনই প্রকল্পের তিনবার উদ্বোধন হল, যা আজও বাস্তবে রূপ পায়নি।

তারাপীঠের গ্রামীণ হাট কেন্দ্র কিংবা কর্মতীর্থ। সোমবার বোলপুরের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে সেই প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ নিয়ে বাম আমলের ওই প্রকল্পের তিনবার উদ্বোধন করা হল।

তারাপীঠ থানার সামনে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের জন্য বাজার গড়া হয় বাম আমলে। প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা খরচ করে ৩৩টি দোকান ঘর তৈরি হয়। ২০১১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন বীরভূম জেলা পরিষদের তৎকালীন সিপিএমের সভাধিপতি অন্নপূর্ণা মুখোপাধ্যায়। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন সহ সভাধিপতি ফরওয়ার্ড ব্লকের নিতাই মাল। তিনি এখন তৃণমূল কংগ্রেসে। বাম আমলে ‘গ্রামীণ হাট কেন্দ্র’ নাম দিয়ে প্রকল্পের উদ্বোধন হয়।

আরও পড়ুন:—

প্রশাসনিক বৈঠকে অবাক হুঁশিয়ারি মমতার, পাশে তখন শতাব্দী, অনুব্রত

‘বঙ্গসম্মানে’র মঞ্চে মমতার বার্তায় জল্পনা

বাম আমলে মূলত স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের হাতের তৈরি সামগ্রী বাজারজাত করতেই ওই হাট গড়েছিল জেলা পরিষদ। উদ্বোধনের পর দিন কয়েক দোকান খোলা হলেও তার পর তা বন্ধ হয়ে যায়। এর পরে ২০১৪ সালের ২১ নভেম্বর প্রকল্পের নাম বদলে দেওয়া হয়। ‘কর্মতীর্থ’ নাম দিয়ে ফের উদ্বোধন করে মা মাটি মানুষের সরকার। সেই সময়ে উদ্বোধন করেন তৎকালীন শিক্ষা দফতরের প্রতিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছিলেন, ‘আগে ঘরগুলি অসম্পূর্ণ ছিল। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বাস্তবভিত্তিক চিন্তাভাবনা দিয়ে নাম করণ করেছেন কর্মতীর্থ। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের জন্য এই প্রকল্প।’ 

উদ্বোধন হয়ে গেল।— নিজস্ব চিত্র

দ্বিতীয় বার উদ্বোধনের পরে এক দিনের জন্যও দোকানগুলি খুলতে দেখা যায়নি। এর পরেই দোকান ঘরের সামনে ফাঁকা জায়গায় তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের টাকায় গাড়ি রাখার জায়গা নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। ফলে কর্মতীর্থের ঘরগুলি এখন রড সিমেন্ট রাখার গো-ডাউনে পরিণত হয়েছে। 
সোমবার পুরনো নামের ‘কর্মতীর্থ’-র ফের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে উদ্দেশ্য বদলে গিয়েছে। এ বার সেখানে নতুন করে গড়া হবে দোকান ঘর। সেই ঘর দেওয়া হবে ফুটপাথ ব্যবসায়ীদের। তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান সুকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘ইতিমধ্যেই থানার সামনের ফাঁকা জায়গায় গাড়ি রাখার জায়গা গড়া হচ্ছে। পাতালে থাকবে তীর্থযাত্রীদের গাড়ি। তার উপরে কিছু ঘর তৈরি করা হবে। সেই ঘর দেওয়া হবে উচ্ছেদ হওয়া ফুটপাথ ব্যবসায়ীদের।’ কিন্তু ঘর নির্মাণের আগেই উদ্বোধন কেন? প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।