কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়।

এই বিশ্বে আজব মানুষের কমতি নেই। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁরা প্রতিনিয়ত কত কাণ্ডই না করে চলেছেন। কেউ বা নিজের মাথায় নিজেই হাতুড়ি ভাঙছেন, কেউ আবার হাতের সামনে যা পাচ্ছেন তাই খেয়ে সাবাড় করে দিচ্ছেন। মিশেল লোতিতো ঠিক এমনই একজন মানুষ। তাঁর কান্ডকারখানার কথা জানলে আপনার চোখ কপালে উঠবে।

জায়গা পাল্টালে খাদ্যাভ্যাসেরও পরিবর্তন হয়। জ্যান্ত আরশোলা, সাপ, ব্যাঙ, টিকটিকি, পচে যাওয়া খাবার থেকে ইট, কাচ, মাটি, খাওয়ার খবরও পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু স্রেফ বিশ্বরেকর্ডের জন্য এই ভদ্রলোক খেয়ে ফেলেছিলেন আস্ত একটা বিমান।

আরও পড়ুন

বয়সকে হার মানিয়ে ১০৫ বছরে বিশ্ব রেকর্ড

পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম দম্পতি এবার গিনেসের পাতায়। জেনে নিন এই ভালবাসার গল্পটি ...

মিশেল লোতিতো। ফ্রান্সের বাসিন্দা। সাধারণ না বলে লোতিতোকে ‘সুপার হিউম্যান’-এর তকমা দেওয়াই যায়। ছোট থেকেই তাঁর এক অদ্ভুত শখ। যে জিনিস নিয়ে বাচ্চারা খেলা করতে পছন্দ করে, ছেলেবেলায় সেই জিনিসই খাদ্য হয়ে উঠেছিল তাঁর। মাত্র ৯ বছর বয়স থেকেই শুরু হয় লোতিতোর মিশন। মানুষকে বিনোদন দিতে শুরু করেন তিনি। টিভি, সাইকেল, পেরেক, বাল্‌ব, কম্পিউটার, খাট— সবকিছু হজম হয়ে গিয়েছে তাঁর পেটে। এতসবের পরেও ক্ষান্ত হননি তিনি। ১৯৭৮ সালে তাঁর শখ চাপে একটি আস্ত বিমান খেয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়বেন। ব্যাস! এরপরেই একটি সেসনা-১৫০ বিমানকে ছোট ছোট টুকরো করে দু বছর ধরে খেয়ে শেষ করে ফেলেছিলেন তিনি।

সেসনা-১৫০ বিমান খাচ্ছেন লটিটো

১৯৫৯ থেকে ১৯৯৭-এর মধ্যে তিনি ৯ টন লোহা খেয়ে শেষ করেছিলেন। সমস্ত ধাতব পদার্থই তিনি টুকরো টুকরো করে খেতেন। আর এই লোহা গেলার জন্য তিনি  খেতেন প্রচুর পরিমাণে মিনের‌্যাল অয়েল এবং জল। 

এতসবের পরে আপনার মনে হতেই পারে, কী ভাবে এই খাবার হজম করেন লোতিতো? এতে তাঁর কোনও সমস্যা হয় না? চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ‘পিকা’ নামক এক বিরল রোগের শিকার ছিলেন লোতিতো। তাঁর পাকস্থলীর আবরণ ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ পুরু। ফলে এই ধাতু তাঁর শরীরের ক্ষতি করতে পারত না। জন্ম থেকেই তাঁর এই রোগ ছিল। তবে কী ভাবে এটা সম্ভব হল, চিকিৎসকরা তার কোনও ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। ২০০৭-এ ৫৭ বছর বয়সে মৃত্যু হয় তাঁর।

দেখুন ভিডিও—